অরণ্য আদিবাসীদের জীবনের প্রতীক: সঞ্জীব দ্রং

আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেছেন, মধুপুর বন যুগ যুগ ধরে সংরক্ষিত ছিল। যখন বন বিভাগ ছিল না, তখনও আদিবাসীরা ছিল। বন বা অরণ্য হচ্ছে আদিবাসীদের জীবনের প্রতীক। টাঙ্গাইলে মধুপুরের আবিমা এলাকায় আদিবাসীরা যুগ যুগ ধরে বসবাস করছে।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মধুপুর বনে এসেছিলেন। এখানে সংবিধান রচনা করা হয়েছে। যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তাহলে বাসন্তীর কলা বাগান বন বিভাগ কাটতে পারতো না।

আমরা সবাই শেষ পর্যন্ত মানুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন বিভাগ অসুস্থ হয়ে গেছে, চোখে ছানি পড়েছে। যে কারণে তারা বাসন্তী রেমার কলা বাগান কেটেছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গালের মধুপুরে ফেকামারী গ্রামে বন বিভাগ কর্তৃক বাসন্তী রেমার কেটে ফেলা কলা বাগান পরিদর্শন শেষে বাসন্তীর বাড়িতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুবায়েত ফেরদৌস, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাঈদা নাসরিন, লেখক অদিতি ফাল্গুনী, আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার

সম্পাদক দীপায়ন খীসা, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জহুরুল ইসলাম, জন উদ্যোগ জাতীয় কমিটির তারেক পিন্টু, কাপেং ফাউন্ডেশনের উজ্জল আজিম, এএলআরডি’র বুলবুল আহম্মেদ, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন

পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, সাবেক সভাপতি অজয় এ মৃ, বাগাছাস সভাপতি জন জেত্রা, সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ, টিডব্লিউ-এর সাবেক সম্পাদক হেলিন জেত্রা, কোচ নেতা গৌরাঙ্গ বর্মন ও বাসন্তী রেমা প্রমুখ।

এ সময় বাসন্তী রেমার বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মধুপুরের গারো নারী বাসন্তী রেমার ৪০ শতাংশ কলার বাগান বন বিভাগ কেটে ফেলার কারণে স্থানীয় আদিবাসীরা আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে বাসন্তী রেমার কেটে ফেলা কলা বাগান পরিদর্শনে আসেন নেতৃবৃন্দ।

এরআগে গত বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর) আদিবাসী ও প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা বৈঠকে উল্লেখিত বিষয়টি সমাধান করা হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-