অন্তর্দ্বন্দ্বে টাঙ্গাইল শহর আ.লীগের সভাপতির উপর হামলা

আওয়ামী লীগের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীরের উপর প্রতিপক্ষরা হামলা করে। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে শহরের বিশ্বাস বেতকা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সিরাজুল হক আলমগীর জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও মাসব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (২২ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ সহ সকল সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠন এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে। শহরে শোভাযাত্রা শেষ করে শহরের ময়মনসিংহ রোডে তার ব্যবসায়ীক কার্যালয়ে যান। এসময় শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি মোর্শেদ ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ঘনিষ্ট কর্মী ফয়সাল, অরূপ, আশরাফ, সজল ও নাহিদ খানকে ১৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর করতে থাকে। আমি খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করতে গেলে মোর্শেদ আমাকেও মারধর করে ও মুজিব কোটটি ছিড়ে ফেলে।

এসময় তিনি আরো জানান, আমি গত রোজার সময় শহর আওয়ামী লীগের সকলকে নিয়ে একটি ইফতার পার্টি করি। সেখান থেকে আমি টাঙ্গাইল পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষনা দেই। এরপর থেকে আমি শহর আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সকল নেতা কর্মীদের একত্রিত করে তাদের সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। শহর আওয়ামী লীগ আমার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছে। কিন্তু কিছু বহিরাগত আওয়ামী লীগের বড় বড় পদে বসে দলীয় ঐক্যবদ্ধতা নষ্ট করতে চাচ্ছে। আমি যেন মেয়র পদে না দাঁড়াতে পারি সেই ভাবে দলের মধ্যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে।

আমি আওয়ামী লীগের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এসময় শহর, পৌর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতা কর্মী তাকে হাসপাতালে দেখতে যান।

এদিকে এই ঘটনায় শহরে বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শহর শহর, পৌর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা যুবলীগের কয়েকজন নেতা জানান, উনি মেয়র পদে নির্বাচন করবেন, আর সেই জন্য ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথেও উনার যোগাযোগ ও বোঝাপড়া অনেক ভালো। উনি এবার নমিনেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে এক নম্বর অবস্থানে আছে। বিষয়টি হাইব্রিড নেতাদের পছন্দের না। তাই ঈর্ষানিত হয়ে এই কাজ করেছে উনাকে ছোট করার জন্য।

শহর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শোকরানা আতিক চৌধুরী বলেন, বর্তমান মেয়রে নির্দেশে শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এই হামলা চালায়। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এবিষয়ে জেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক খ. জাফরুল আজম অপু বলেন, উনি একজন সিনিয়র নেতা, দলের জন্য উনার অনেক ত্যাগ রয়েছে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

শহর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সাইদ পিয়ারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এবিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি রাজনীতি করেছি, সন্ত্রাসী লালন-পালন বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করিনাই। কেউ বলতে পারবে না। আমি টাঙ্গাইলে পৌরসভায় জনগণের ভোটে, ভালোবাসায় নির্বাচিত। আমি তাদের সেবাই করে চলেছি। আমাদের শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহেব এতদিন ফ্রেশ রাজনীতিই করতেন। কিন্তু ইদানিং উনি শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডন সোহেল, কোয়াটার রনিদের সাথে নিয়ে চলাফেরা করে। আর এরা খান পরিবারের ঘনিষ্ট ও পালিত সন্ত্রাসী। তিনি এদের মোর্শেদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতেন। তিনি টাঙ্গাইল শহরটাকে আবার উত্তপ্ত করে তুলছেন। দুইমাস আগেও অনেক শান্ত ছিল।

এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, এই কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(খবরবাংলা, ঘাটাইলডটকম)/-