GPA5 না পাওয়াটা সফলতার প্রথম ধাপ, টারনিং পয়েন্টও বলতে পারো

যারা GPA 5 পাওনি বা ফেল করেছ বলে রাতে ফুল ভলুউমে গান বাজাও ঘণ্টা, তারপর সারা রাত ভাবো……নিজের সাথে কথা বলকেন রেজাল্ট খারাপ হল? বাবামায়ের কথা শুননি? মাবাবাকে কোন কষ্ট দিয়েছ? তুমি কি কি ফাঁকি দিয়েছ নিজের সাথে? কেউ কখনো অন্যকে ফাঁকি দিতে পারে না, ফাঁকি দেয় নিজেকে
বাবামাকে সালাম করে আবার নতুন করে কাল সকাল থেকেই শুরু কর…… থেমে যেওনা ততক্ষণ যতক্ষণ কেউ বলেও তোমাকে থামাতে না পারে। পড়াশুনার পাশাপাশি জানার চেষ্টা কর অনেক বেশী। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখ, সবার Contact নাম্বার একটা নোট বুকে লিখে রাখ। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি ঐরকম ১২ ডজন GPA5 তোমার অফিসে কাজ করবে।

আজকের ফলাফলকে জীবনের শেষ পরীক্ষা ভেবনা না। জীবনের পরীক্ষা তো সবে শুরু, ২য় ধাপে তুমি, আরো অসংখ্য সুযোগ পড়ে আছে তোমার জীবনে।

বাবামাদের বলছি এই মুহূর্তে আপনাদের সন্তানদের কাছে টেনে নেয়া অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশী দরকার। কোন অবস্থাতেই রেজাল্ট নিয়ে কিছু বলা যাবে নাতাকে সাহায্য করুন যাতে সে তার ভুলগুলু ধরতে পারে।
যারা GPA5 পেয়েছ তাদের অভিনন্দন, তোমাদের মাবাবাকেও অভিনন্দন, তোমাদের কষ্ট সার্থক হয়েছে। থেমে যাবে না এটাই শুরুভালো কলেজে ভর্তি হতে না পারলেও হতাশ হবে না। মনে রাখবে সবসময় ভালো কিছু অপেক্ষা করছে তোমার জন্য, নিজের ভালোটা খুঁজে নিতে হবে আর লেগে থাকতে হবে তা না পাওয়া পর্যন্ত

আমি আমার জীবনে HSCতে ফেল করেছিলামচারিদিকে একটাই আলোড়নআমাকে দিয়ে কিছু হবে না”, আমি নষ্ট হয়ে গেছি। অনেক কষ্ট করে নিজেকে সামাল দিয়েছিলাম দ্বিতীয়বারে 2nd ডিভিসান পেয়েছিলাম। ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন ছিল, অ্যাডমিসান টেস্ট দেবার নাম্বারই পাইনি। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চাঞ্চ পাইনি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে চাঞ্চ পাইনি,না চট্রগ্রাম ইউনিভার্সিটিতে এমনকি জগন্নাথ ইউনিভার্সিটিতেও ভর্তি হবার সুযোগ পাইনি, ভর্তি হয়েছিলাম তিতুমীর কলেজে বিকম (পাস) যথারীতি সবাই বলা শুরু করলো আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু ততদিনে আমি আমার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছি। আমি জানি আমি কি করছি এবং আমি জানি আমাকে কোথায় কতদুর যেতে হবে এবং তার জন্য আমি সব কিছু Sacrifice করতে প্রস্তুত ছিলাম। বিকম এও 2nd ডিভিসান পেলাম কিন্তু আমি খুশি ছিলাম কারণ জীবনে প্রথম বাণিজ্য বিভাগে পড়লাম বিজ্ঞান থেকে।

তারপর শুধুই এগিয়ে চলা– CA, MCom, MBA সবই পড়লাম কিন্তু সবসময় 2nd ডিভিসানে পাশ। কিন্তু আমার কোন দুঃখ ছিল না কারণ ততদিনে আমি বাইরের জগতের তথা দুনিয়ার কোথায় কি হচ্ছে তা জানার শিখার আগ্রহ নিজের মাঝে তৈরি করে ফেলেছি। আমি তৈরি ছিলাম যেকোন কষ্ট স্বীকার করার, নির্ঘুম পরিশ্রম করার নিজেকে বদলে ফেলার। ঠিক করে ফেলেছিলাম চাকরী করবো না, চাকরী সৃষ্টি করবো। জীবনে সফলতা মানে বাড়ি, গাড়ী টাকা নয়, সফলতা মানে সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, সুখ সম্পদ আর একজন ভালোমানুষ।

আজ আমি ১৪০টি পরিবারের হাসিমুখ প্রতিদিন দেখতে পাইএটাই আমার কাছে সফলতা

(ইকবাল বাহারের ওয়াল থেকে/ ঘাটাইল.কম)/-