৮ ফেব্রুয়ারি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আশপাশে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে লোকসমাগম করবে দলটি। সারা দেশেও রাজপথে সরব থাকবেন নেতা-কর্মীরা।  ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নেতিবাচক রায় এলে দেশজুড়ে তাত্ক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে। বকশীবাজার এলাকা থেকে বেগম জিয়াকে জেলে নিতেও বাধা দেওয়া হবে। এরপর শনিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে পরদিন থেকে লাগাতার হরতাল কর্মসূটির দিকেও যেতে পারে দলটি।

প্রাথমিকভাবে এসব কর্মসূচি নিয়ে ভাবছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

এ নিয়ে দলের নির্বাহী কমিটি ও স্থায়ী কমিটির সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

নির্বাহী কমিটি চাইলে কর্মসূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, রায়-পরবর্তী দলের করণীয় নিয়ে কয়েক দিন ধরেই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্নজনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কোনোভাবেই যেন দলে ভাঙন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা বিলুপ্ত করে তা স্থায়ী কমিটিতে অনুমোদন করিয়ে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। গঠনতন্ত্রের ৭ ধারায় দলের সদস্যপদের অযোগ্যতার বিষয়ে যা উল্লেখ ছিল, তাতে কেউ দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর তিনি দলের সদস্য থাকতে পারবেন না। ওই ধারার (ক)-তে আছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতি আদেশ নম্বর ৯-এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি, (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।

লন্ডন থেকে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও সার্বিক বিষয় তদারক করছেন।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সঙ্গে যৌথ সভা করছেন। গতকালও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। এর আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে উত্তর শাখার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল। আজ তিনি গুলশানে চেয়ারপারসন কার্যালয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও দলের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা বুড়ো হয়ে গেছি, বয়স হয়ে গেছে। সারাটা জীবন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে আছি, কখনো সরে যাইনি। আপনারা যারা তরুণ আছেন, সময় আপনাদের। পরিবর্তন আপনাদেরই আনতে হবে। গণতন্ত্রকে বাঁচাতেই হবে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘এক নেত্রী আদালতে যাবেন, আরেক নেত্রী নির্বাচনী জনসভা করবেন, এটা গণতন্ত্রের রাজনীতিতে তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে নেওয়া হলে এ দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সারাধণ মানুষই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’

এরই মধ্যে শুরু হয়েছে গণগ্রেফতার। রাজধানীতে মধ্যম সারির নেতাদের বাসায় সাদা পোশাকে পুলিশ যাতায়াত করছে বলেও অভিযোগ দলটির।

বিএনপির হাইকমান্ড থেকে মধ্যম সারি ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই কেউ গ্রেফতার হওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করে রাত যাপন করতে বলা হয়েছে। কৌশল নিয়ে সবাইকে চলতে বলা হয় দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে।

রায়ের দিন ঢাকার রাজপথে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে নয়, মোড়ে মোড়ে অবস্থান, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।

এদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সঙ্গে ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির ‘রাজদর্শন’ হলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সভায় সবার বক্তব্য শুনবেন। এরপর তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।

এ নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার ‘রাজদর্শন’ হলে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির গঠনতন্ত্রের বিধানবলে দলের চেয়ারপারসনের পরামর্শক্রমে মহাসচিব জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করেছেন। তিনি কমিটির সদস্যদের নোটিশ দিয়েছেন ৩ জানুয়ারির সভায় উপস্থিত থাকার জন্য।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পর জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও এটাই বর্তমান কমিটির প্রথম বৈঠক। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সারা দেশের শাখাগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা পদাধিকারবলে নির্বাহী কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন।

৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায় সম্পর্কে যেটা আমরা আশঙ্কা করছি, সেদিন নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত সরকার কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে যদি আদালত থেকে প্রকাশ পায়, তাহলে তখন থেকে এ সরকারের পতনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে।’

(বিডি প্রতিদিন, ঘাটাইল ডট কম)/-

71total visits,1visits today