৭৬ কেজি বোমা ; শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড, দণ্ড গুলি করে কার্যকরের আদেশ

১৭ বছর আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ এসেছে। বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ফাঁসিতে হলেও এদের দণ্ড গুলি করে কার্যকরের আদেশ এসেছে। এ ঘটনায় বিস্ফোরক মামলায় ৯ জনের ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাতেও বিচারিক আদালত ফায়ারিং স্কোয়াডে দণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছিল। তবে পরে আপিল বিভাগের আদেশের পর পাঁচ জনের দণ্ড কার্যকর হয়েছে ফাঁসির দড়িতে।

বরিবার সকালে ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম এই আদেশ দেন।

মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক হোসেন ওরফে মারফত আলী, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান ওরফে শিপন, ইউসুফ ওরফে মোহসাব মোড়ল, মাওলানা শওকত  ওসমান  ওরফে  শেখ ফরিদ, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বক্কর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ ইয়াহিয়া, আব্দুর রউফ ওরফে মুফতি আব্দুর রউফ ওরফে আ. রাজ্জাক ওরফে আবু ওমর, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আ. হাই।

হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের এ দুই মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য একটি মামলায়। এ কারণে তার নাম এ মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

হত্যাচেষ্টা মামলায় মেহেদী  হাসান ওরফে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে গাজীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া আনিসুল ইসলাম আনিস, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান এবং সারোয়ার হোসেন মিয়াকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। এবং বাকি ১০জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

আর একই ঘটনায় বিস্ফোরক মামলায় ৯ জনের ২০ বছর করে কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন-মো. ইউসুফ ওরফে মোসহাব ওরফে আবু মুসা হারুন (পলাতক), আনিসুল ইসলাম আনিস, মেহেদী  হাসান ওরফে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে গাজী, ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক হোসেন ওরফে মারফত আলী, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মো. মাহমুদ আজহার ওরফে মামুনুর রশিদ ওরফে রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান ওরফে শিপন, মো. শাহনেওয়াজ ওরফে মো.আজিজুল হক, শেখ মো. এনামুল হক (পলাতক)।

এই মামলায় চারজন খালাস পেয়েছেন। এরা হলেন- মুন্সি ইব্রাহিম, মো. লোকমান, হাসমত আলী কাজী এবং আবুল হোসেন খোকন।

২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার প্যান্ডেল তৈরির সময় শক্তিশালী একটি বোমা দেখতে পাওয়া যায়। সেনাবাহিনীর একটি দল ৭৬ কেজি ওজনের ওই বোমা উদ্ধার করে। পরদিন ২৩ জুলাই ৪০ কেজি ওজনের একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই কোটালীপাড়া থানার পুলিশ হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করে।

সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেন। এতে তাতে আসামি করা হয় ১৬ জনকে। পরে ২০০৯ সালের ২৯ জুন নতুন করে ৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

গোপালগঞ্জের আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্রটি যখন দেয়ার আগে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ৪১ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে মামলা দুটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

 

(ঘাটাইল.কম/২০আগস্ট)/-

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।