১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন শাজাহান সিরাজ

ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। আজ ৩রা মার্চ, ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে পল্টনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।

ইশতেহারে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচিত করা হয়।

এ দিনে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানটি ছিল আমাদের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য দিন।

এছাড়াও এদিন (০৩ মার্চ ১৯৭১) বাংলার মাটি শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়। চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর গুলিতে ৭১ জন নিহত হন। সারাদেশ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

পল্টনের জনসভায় অহিংস-অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে বঙ্গবন্ধু অবিলম্বে সামরিক আইন প্রত্যাহার, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি করেন। ইশতেহারে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাত কোটি মানুষের জন্য স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম বলা হয়, বাংলাদেশ।

আজ রোববার (৩ মার্চ) টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইশতেহার পাঠকারীর স্ত্রী ও সাবেক এমপি রাবেয়া সিরাজ। বক্তারা এই দিনটিকে জাতীয়ভাবে ছুটি ঘোষনা করে দিবসের স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানান এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস শেখার আহ্বান জানান।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-

130total visits,1visits today