১২ আগস্ট আরাফাত রহমান কোকোর শুভ জন্মদিন

আরাফাত রহমান কোকো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধর দামামা চলাকালীন ১২ আগস্ট ১৯৬৯ তারিখে আরাফাত জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৬৫ সালে আরাফাতের মা খালেদা জিয়া বাবা জিয়াউর রহমান পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমানে পাকিস্তান) যান। তারা ১৯৬৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত করাচিতে ছিলেন। এর পর ঢাকায় চলে আসেন। কিছু দিন জয়দেবপুর থাকার পর চট্টগ্রামে বাবা জিয়াউর রহমানের চাকুরির সুবাদে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ১৬ মে নৌপথে তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। কোকোর বড় খালা খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন পরিবারের সবাই। ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীতে এস আবদুল্লাহর বাসা থেকে পাকিস্তানি বর্বর হানাদাররা মা খালেদা জিয়া এবং বড় ভাই তারেক রহমানসহ শিশু আরাফাত রহমান কোকোকে আটক করে এবং ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের ঢাকা সেনানিবাসে বন্দী করে রাখে। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মা খালেদা জিয়া এবং বড় ভাই তারেক রহমানসহ আরাফাত রহমান মুক্তি পান। ২৪ জানুয়ারি ২০১৫ নির্বাসিত থাকাবস্থায় মাত্র বয়স ৪৫ বছর বয়সে আরাফাত মালয়েশিয়ায় অকালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

আরাফাত রহমান ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালে ১৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যান এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে মালেশিয়ায় গিয়ে বসবাস ও চিকিৎসা করছিলেন। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া জাতীয় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ও সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক স্ত্রী এবং দুই সন্তান রেখে গিয়েছেন।

 

আরাফাত রহমান কোকো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হলেও রাজনীতিবিদের চেয়ে একজন ব্যবসায়ী হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও সিটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় আটক থাকা আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ রাজধানীর বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফনের অনুমতি দেয়নি তৎকালীন সরকার, জানিয়েছিলেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি তখন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনাপ্রধানের ছেলে হিসেবে কোকোর কবর সামরিক কবরস্থানে হতে পারে। এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনুমতি মেলেনি। পরবর্তীতে রাজধানীর বনানী সিটি করপোরেশন কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর) সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুল বারী তখন জানান, বনানী কবরস্থানের বি ব্লকের ১৮ নং সারিতে অবস্থিত ১৮৩৮/১৪৭ নং কবর খোঁড়া হচ্ছে। সেখানেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

 

আরাফাত রহমানের মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হলে সে এক অভূতপূর্ব হৃদয়বিদারক বেদনাবিধুর দৃশ্যের অবতারণা হয়। সারা বাংলাদেশে শোকের কালো ছায়া নেমে আসে। ছোট ছেলের কফিনের সামনে নির্বাক হয়ে ৩৫ মিনিটের মতো বসে থাকেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়া। কখনো গুমরে কান্না আবার কখনো নাতনীকে জড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন খালেদা জিয়া। সাদা কফিনে সাদা পোশাকে শুয়ে আছেন কোকো। মুখে দাঁড়ি। মা যখনই ছেলের দিকে তাকাচ্ছিলেন তখন কাঁদছিলেন শিশুর মতো আহাজারি করছিলেন। এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্য। বাবা-মা এর কাছে সব থেকে ভারী সন্তানের মরদেহ।

 

এদিকে প্রশাসনের রক্তচক্ষুকে সম্পূর্ণভাবে পরাভুত করে সকল বাঁধা ষড়যন্ত্রকে নিমিষেই ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে লাখ লাখ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছিলেন বাংলাদেশের সম্পদ আরাফাত রহমান। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বাংলাদেশের স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যা জিয়া পরিবারের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন এবং ভালবাসার অনন্য নজির স্থাপন করে। বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সাধারণ গণমানুষ এতে নির্দ্বিধায় অংশ নেন। প্রশাসনের কড়াকড়ির মধ্যেও জানাজাকে ঘিরে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জানাজায় উপস্থিত হন।

 

আল্লাহপাক তার বিদেহী আত্মার শান্তির ব্যবস্থা করুক, আমিন।।

214total visits,2visits today

Leave a Reply