হস্তান্তরের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ মির্জাপুরের বাওয়ার কুমারজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাওয়ার কুমারজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন হস্তান্তরের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন ওই ভবনের সিঁড়ির সানসেটে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া সিঁড়ি ও দুইতলার মেঝের পলেস্তারা উঠে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা বেগমের অভিযোগ করেন, নিম্নমানের কাজ করার কারণে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত সিঁড়ি ভেঙ্গে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবন ধসের ঘটনা ঘটায় বিদ্যালয়টিতে ক্লাস নিতে ভয় করছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্র জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাহিদা ভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মির্জাপুর পৌরসভার ২৬নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ কাজের বরাদ্ধ দেয়া হয়। ভবনটি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৫ টাকা। ভবন নির্মাণের কাজ পায় স্থানীয় মেসার্স হাজী ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়া বলেন, নির্মাণ কাজের শ্রমিক স্থানীয় না হওয়ায় ঠিকাদারের ইচ্ছেমত কাজ করেছেন। সামান্য পতাকা স্ট্যান্ড সঠিক জায়গায় স্থাপনের কথা বললেও শ্রমিকরা তা করেননি।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তানিয়া রহমান ও রোকসানা আক্তার বলেন, নবনির্মিত ভবনটি হস্তান্তরের আগেই পলেস্তারা ও সিঁড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে।

মির্জাপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, ৩১ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে গেলে জুতার সাথে পলেস্তার উঠে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা বেগম ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফ দুলাল জানান, বিদ্যালয়ের নবনির্মিত সিঁড়ি ভেঙ্গে পড়েছে, দুইতলার জানালা খসে পড়েছে। এছাড়া ছাদের পলেস্তারা উঠে যাচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে।

মেসার্স হাজী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার মনিরুজ্জামান বলেন, ভবনটি নির্মাণে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়নি। সঠিকভাবেই কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সিঁড়ি, দু’তলার মেঁঝে ও জানালায় কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছে। হস্তান্তরের আগেই সংস্কার করা হবে।

মির্জাপুরের এলজিইডির উপ-সহকারি প্রকৌশলী শামসুদ্দিন জানান, ভবনটি নির্মাণে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত সংস্কার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক জানান, অনিয়মের বিষয়টি জানা নেই। তবে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-

59total visits,1visits today