সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ীর ২৭ লাখ টাকা উধাও!

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন জাকির হোসেন (৪২) নামে ঢাকার এক ঝুট ব্যবসায়ী। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ন্যাশনাল পার্কের ৩ নং গেইটের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা ২৭ লাখ টাকা খুঁজে পাচ্ছেন না তার স্বজনরা। তারা এ দুর্ঘটনার বিষয়টিকেও রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন।
নিহত জাকির হোসেন গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই জানান, রাতে ওই ব্যবসায়ী একা একটি প্রাইভেটকার চালিয়ে ঢাকা থেকে বাঘের বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় অজ্ঞাত দ্রুতগামী যান তার প্রাইভেটকারটি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে প্রাইভেটকারটি উল্টে সড়কের পাশে পড়ে যায়।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ব্যবসায়ীকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্যবসায়ী মাদক সেবন করত জানিয়ে ওসি দাবি করেন সালনা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই জয়দেবপুর থানার হোতাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।
নিহতের ভাই নাসির উদ্দিন জানান, ব্যবসায়ী জাকির হোসেন সপরিবারে ঢাকার উত্তরায় থাকেন। বাঘের বাজার ও বানিয়ারচালা এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানায় তিনি ঝুট ব্যবসা করেন। পোশাক কারখানাগুলোতে দেয়ার জন্য রাতে তিনি বাসা থেকে ২৭ লাখ টাকা নিয়ে বানিয়াচালার উদ্দেশে রওনা হন। দুর্ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করা হলেও তার সাথে থাকা ২৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়নি।
তবে পুলিশ জাকিরের কাছে ১৭ হাজার ৫’শ টাকা পেয়েছে বলে আমাদেরকে দিয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক বলে দাবি করেন নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, বানিয়ারচালা এলাকার বেলায়েত নামে জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে তার ভাই জাকির হোসেনের ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। একাধিক কারখানার ব্যবসা সে জাকিরের কাছ থেকে দখলে নিয়েছে। জাকিরের দুর্ঘটনার সংবাদ বেলায়েতই আমাদেরকে সর্বপ্রথম মোবাইলফোনে জানায়।
এ ব্যাপারে বেলায়েত হোসেন জানান, রাজেন্দ্রপুরের জনৈক রাশিদুলের মাধ্যমে দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে সে জাকিরের পরিবারের সদস্যদেরকে সংবাদটি জানান। জাকিরের পরিবারের অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা নেই।
এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানার হোতাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান বলেন, নিহতের টাকা পয়সার ব্যাপারে কিছু জানি না। হোতাপাড়া ফাঁড়ী পুলিশের কর্মকর্তাদের পৌঁছানোর আগেই সালনা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। নিহতের সঙ্গে মোটা অংকের টাকা পয়সা থাকার বিষয়টি অবগত নই।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মহাসড়কের দু’পাশে গভীর শালবন। ঘটনাস্থলের দু’পাশে কোনো বাড়িঘর নাই। দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেটকারটি এখন সালনা হাইওয়ে থানায় রাখা আছে। গাড়িটির সামনের অংশ থেতলে গেছে ও ছাদ দুমড়েমোচরে গেছে।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জিহাদ জানান, পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে বার্তা পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছি। এর আগেই হাইওয়ে ও ফাঁড়ি পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। যেহেতু ভিকটিম উদ্ধার হয়েছে সেহেতু আমাদের কাজ না থাকায় ফিরে আসি। সেখানে উপস্থিত ভিকটিমের স্বজনরা টাকা পয়সা পাচ্ছে না বলে বলাবলি করছিল।

(যুগান্তর/ঘাটাইল.কম)/-