স্ববিরোধিতায় ভরা বিচারপতি খায়রুলের বিচারক জীবন

খায়রুল হকের প্রধান বিচাপরপতি পদে অভিষেকটা হয়েছিলো অনিয়মের মাধ্যমে। ২০১০ সালে কর্মে সিনিয়র দুজন বিচারপতি এমএ মতিন ও বিচারপতি শাহ অাবু নাইম মোমিনুর রহমানকে সুপার সিড করে তাকে সরকার প্রধান বিচারপতি বানিয়েছিলো। এটা ছিলো পঞ্চম সংশোধনী বাতিল, বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং পনেরই অাগষ্টের জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারী ছুটি ঘোষনা করে রায় দেয়ার পুরস্কার। অারো সরলিকরণ করে বললে অানুগত্যের নৈবদ্য হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন প্রধান বিচারপতির দুর্লভ সম্মান!

 

তার হাইকোটের বিচারিক জীবনের কিছুটা এবং সুপ্রিম কোর্টের পুরো সময়টা অামার স্বচক্ষে দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি অাপামস্তক একজন পলিটিসাইসজড জাজ। তার কনস্টিটিউশনাল রায় গুলো চোখ বোলালে যে কেউ সেটা বুঝতে পারবেন। প্রায় বিচারপতি মানিকের সমগোত্রিয়। হাইকোর্ট এমনকি সুপ্রিমকোর্টে মামলার শুনানীর সময় হঠাৎ অাইনজীবীদের থামিয়ে দিয়ে যেসব গল্প করতেন, যেসব হিতোপদেশ শোনাতেন, তার সবটাই ছিলো নিজেকে গ্লোরিফাই করার এক ধরনের প্রয়াস! হ্যা। বিচারপতি খায়রুল চমক দিতে পছন্দ করতেন। নিজেকে অন্যন হিসেবে সবার কাছে উপস্থাপন করতেন সুপরিকল্পিত ভাবে।

 

বাস্তবে তার জীবনাচরন এমনকি তার দেয়া রায়গুলো ছিলো ঠিক তার বিপরীত। একই অঙ্গে এতরুপ অার কোন বিচারপতির ছিলো কিনা অামার জানা নেই। তিনি পঞ্চম সংশোধনী মামলায়, জিয়ার সব কিছু বাতিল করলেও, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে মার্জনা করেছিলেন। অথচ অাজ তিনি বললেন,সেটা নাকি অস্বচ্ছ। অারো অাছে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ সম্পর্কে তার রায়ে তিনি থাকলেন মুক।

তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ের শর্ট ওর্ডারে, তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে, পর্যবেক্ষণ দিলেন, অারো দুই মেয়াদে এটা থাকতে পারে। তার শর্ট ওর্ডারকে ভিত্তি করে, সরকার নজিরবিহীনভাবে নতুন সংবিধান ছাপালো, সংসদে পঞ্চদশ সংশাধনী পাস করলো। অথচ তিনি এসব জেনে শুনে থাকলেন চুপ। অবসর গ্রহনের পনেরমাস পরে,তিনি যে পূর্নাঙ্গ রায় দিলেন,তাতে তার দেয়া তত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি লক্ষনিয়ভাবে অনুপস্থিত! দ্বিচারিণী কিম্বা স্ববিরোধিতাটা বোধ করি একেই বলে! কেবলমাত্র তার ব্যক্তিস্বার্থ অার রাজনৈতিক অানুগত্যবোধের কারনে দেশ অাজ অদ্ভুত অনিশ্চয়তার পাকে খাবি খাচ্ছে!

বিচাপরপতি এমএ অাজিজ যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন। তখন বিচারপতিদের প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে যাওয়া উচিৎ কি উচিৎ নয়,সে বিষয়ে সাংবিধানিক বিতর্ক দেখা দেয়। সম্ভবত তার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়, বিচারপতিদের প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে থাকা অবৈধ! অথচ তিনি রিটায়ার্ড করার পরর প্রজাতন্ত্রের লাভ জনক পদ অাইন কমিশনের চেয়ারম্যান হতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি! শুধু তাই নয়, এরকম পদে থেকে, রাষ্ট্রের সুবিধা ভোগি প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করা রীতিমত অবৈধ! অার তাছাড়া পূর্বতন একজন প্রধান বিচাররপতি হয়ে উত্তরসুরী কারো বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন সেটাও তো নজিরবিহীন! অারো নজিরবিহীন এই কারনে, যে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তিনি নির্বাহী বিভাগ প্রধানের ত্রান তহবিল থেকে অনুদান পাওয়া একমাত্র সিজে।

রাবনের সাথে যুদ্ধে রাম যখন অাহত! তখন হনুমানকে বলা হয়েছিল কৈলাশ পর্বতের চূড়ায় এক ধরনের গাছ অাছে, যার পাতা খেলে রাম সুস্থ হবে। অতিভক্ত হনুমান গাছও চেনেনা,পাতাতো দুর কি বাত। সে পুরো পবর্তের মাথায় নিয়ে রামের চরনে রাখে!

 

ইটালিয়ান মার্বেল কোম্পানীর মালিক অবাঙালী মাকসুদ অালম,তার ওয়াইজঘাট এলাকার মুন সিনেমা ফেরত দিতে মামলা করছিলেন, অার তার রায়ে খায়রুল হক,বাতিল করেদিলেন, পুরো জিয়াউর রহমানের রেজিম। অতিভক্তি চোরের লক্ষণ! বুঝি একেই বলে! অথচ অাজ তিনি বললেন,ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর্যবেক্ষণ অপ্রাসঙ্গিক!

 

নগরীতে অাগুন লাগলে,দেবালয় কি অক্ষত থাকে!!

 

(মুজতবা খন্দকার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট/ ঘাটাইল.কম)/-

188total visits,1visits today