সুলতান সুলেমান সিরিজটি বড় ধরনের মিথ্যাচার!

সুলতান সুলেমান সিরিজ নিয়ে তুরস্কে তুমুল বিতর্ক চলছে। তুরস্কের অনেকেই মনে করেন, সিরিজটিকে বাণিজ্যিক করতে গিয়ে তুরস্কে মুসলমানদের ইতিহাসকে খণ্ডিত, বিকৃত ও খারাপভাবে দেখানো হয়েছে। তাদের মতে, এতে সুড়সুড়ির উপাদান থাকায় অনেকে সিরিজটি দেখেছেন। বাংলাদেশে সুলতান সুলেমান সিরিজ ডাবিং করে বাংলায় প্রচার হলে তা বিপুল দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে।

ইস্তানবুলের বাসিন্দা ইমরাহ বলেন, সিরিজটি বড় ধরনের মিথ্যাচার। তুরস্কের দুই হাজার বছরের ইতিহাসে দেখা যায় যে, প্রথমে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীরা রোমান, তার পর বাইজেন্টাইন ও সবশেষে মুসলিম অটোম্যান শাসকরা দেশটি শাসন করেছেন। অটোম্যান আমলে সুলতানরা দেশটি শাসন করেন। ৩৬ জন সুলতান দেশটি শাসন করেন। সুলতান সুলেমান তাদের একজন মাত্র।

অটোম্যান শাসকদের প্রাসাদের নাম টপকাপি প্রাসাদ। বর্তমানে প্রাসাদটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। টপকাপি প্রাসাদে পর্যটকদের গাইড হিসেবে কাজ করেন মিস্টার হাকান। তিনি বলেন, টপকাপি প্রাসাদে বড় কিচেন আছে, যেখানে প্রতিদিন চার হাজার মানুষের রান্না হতো, সুলতানের নিরাপত্তা রক্ষীদের আলাদা ব্যারাক, সুলতানের সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী রাষ্ট্রদূতদের জন্য কক্ষ, বিচারালয়- এসব যেমন ছিল, ঠিক তেমনি ছিল হেরেম।

হেরেম মানে পরিবার তথা অন্দরমহল। সেখানে সুলতানের মা, বোন, ভাই, ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী থাকতেন। পরিবারে যেভাবে মানুষ বাস করে, সেখানেও সেভাবে থাকতেন। সুলতানের মা সাধারণত পরিবারের নিয়ম ঠিক করতেন। ফলে সুলতান যেকোনো দাসীকে বিছানায় নিয়ে যেতেন এটি মোটেও ঠিক নয়। বরং রাজকুমারীরা দেশের মানুষকে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত করার দাতব্য কাজ করেছেন।

হাকান বলেন, অটোম্যান সুলতানরা নারীলিপ্সু হলে তারা কয়েকশ বছর দেশ শাসন করতে পারতেন না। ইমরাহ বলেন, সুলতান সুলেমান ৪০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। তার মধ্যে ৩৮ বছর তিনি যুদ্ধ করে কাটিয়েছেন। স্ত্রীগণ ছাড়া অন্য মেয়েদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তার ছিল না। তিনি তার মায়ের কক্ষ অতিক্রম করে নিজের শয়নকক্ষে যেতেন। ফলে হেরেমে ভোগবিলাসে মেতে থাকার চিত্র অলীক কল্পনা। তবে হাকান অবশ্য স্বীকার করেন যে, হেরেমে কোনো কোনো বেগম প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট ছিলেন। হুররম সুলতান তাদের একজন। তার মানে সব বেগম উচ্চাভিলাষী ছিলেন এটি বলা যায় না।

 

তুরস্কে খ্রিস্টধর্মের রোমান ও বাইজেন্টাইন শাসনের অবসান ঘটান মুসলিম অটোম্যান শাসকরা। অটোম্যান শাসনের অবসানের পর কামাল আতাতুর্ক শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে সেকুলার শাসন প্রবর্তন করেন। তিনি ইউরোপীয় স্টাইলে নারীদের অনেক অধিকার দেন।

তুরস্কে বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ক্ষমতায় গিয়ে ইসলামী শাসন কায়েমের চেষ্টা করেন। কিন্তু তুরস্কের বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক রাজধানী ইস্তানবুলে, যেখানে দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর ২৫ শতাংশ বাস করেন, সেখানে এবং রাজধানী আঙ্কারায় মেয়র পদে এরদোগানের একে পার্টির ভরাডুবি হয়েছে।

ইস্তানবুলে মেয়েদের ইউরোপীয় ধাচের খোলামেলা পোশাক ও জীবনযাত্রা দেখে বোঝা যায়, সেখানে ইসলামপন্থী এরদোগান বড় প্রভাব ফেলতে পারেননি। আর ইস্তানবুলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

(যুগান্তর, ঘাটাইলডটকম)/-