সালমান শাহর হত্যাকাণ্ড নাকি মৃত্যু, আর রুবি

গত সোমবার ফেইসবুকে একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, তার স্ত্রী সামিরা হকের পরিবারই তাকে হত্যা করিয়েছে। ওই বক্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই বুধবার তার নতুন ভিডিওবার্তা আসে। সেখানে রুবি বলেছেন, আগের ভিডিওতে ‘ইমোশনাল’ হয়ে তিনি সেসব কথা বলেছিলেন। দুই দশক আগের ওই ঘটনার ‘প্রকৃত’ তথ্য জানতে সামিরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানান তিনি।

ফেইসবুক লাইভে রুবি বলেন, “… যেদিন খুন হয়। খুন বা আত্মহত্যা যেটাই হোক, আমি কিন্তু কোনো ইনভেস্টিগেশনের মধ্যে বলব না এটা খুন না আত্মহত্যা। এটা আমার বলা উচিত না। আমি আগেরবার যেটা বলেছি ভিডিও করে সেটাতে আমার রং ছিল। আমি ইমোশনাল ছিলাম বেশি, যার জন্য আমি বলেছি এটা হত্যা।

“হত্যা কী আত্মহত্যা সেটা ঠিকমতো… যদি আবার সামিরাকে বা তার বাবাকে নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে ঠিকই বের হবে।”

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তুমুল জনপ্রিয়তার মধ্যে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনের (সালমান শাহ) লাশ উদ্ধার করে।

 

ওই ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বিবেচনা করে পুলিশ সে সময় অপমৃত্যু মামলা করলেও সালমান শাহর পরিবার তা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। সালমানের বাবা কমরুদ্দীন আহমেদের মৃত্যুর পর সেই মামলা এখন চালাচ্ছেন মা নীলা চৌধুরী।

 

সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য তার স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মাদ ভাইসহ ১১ জনকে দায়ী করে আদালতে আবেদন করেছিলেন নীলা; ওই ১১ জনের মধ্যে সালমান শাহর ‘বিউটিশিয়ান’ রুবির নামও রয়েছে।

 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসরত রুবি তার সোমবারের ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, “সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই। সালমান শাহকে খুন করা হইছে, আমার হাজব্যান্ড এটা করাইছে আমার ভাইরে দিয়ে। সামিরার ফ্যামিলি করাইছে আমার হাজব্যান্ডকে দিয়ে। আর সব ছিল চায়নিজ মানুষ।”

রুবি সেখানে জানান, স্বামীর নাম চ্যাংলিং চ্যাং, যিনি বাংলাদেশে জন চ্যাং নামে পরিচিত ছিলেন। ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে সাংহাই রেস্টুরেন্ট নামে তার একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁ ছিল। তিনি বলেন, “ইমনরে (সালমান শাহর প্রকৃত নাম) সামিরা, আমার হাজব্যান্ড ও সামিরার সমস্ত ফ্যামিলি সবাই মিলে খুন করছে। ইমনরে আমার ভাই রুমিরে দিয়ে খুন করানো হইছে। রুমিরেও খুন করানো হইছে। আমি জানি না, আমার ভাইয়ের কবর কোথায় আছে। রুমির লাশ যদি কবর থেকে তুলে পোস্টমর্টেম করে, তাহলে দেখা যাবে রুমিরে গলা টিপে মেরে ফেলা হইছে।”

 

রুবির ওই ভিডিও প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে তার জবানবন্দি নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।

অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসা সামিরার বাবা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা এতদিন পর রুবির এ ধরনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এদিকে প্রথম ভিডিওতে সালমান শাহকে ‘খুনের’ জন্য স্বামীকে জড়ালেও নতুন ভিডিওতে সেই অবস্থান পাল্টেছেন রুবি।

তিনি বলেন, “আমার স্বামী মারছে নাকি আমি জানি না। কেউ লিখলেও কোনো কিছু আসে যায় না। আমি প্রমাণ চাই কোনো কিছু করার জন্য।… আমার হাজব্যান্ডরে কিন্তু এখনও দোষ দিবেন না। আমি যেই কথা বলেছি আমার জানের ভয় ছিল দেখেই। ভিডিও করার পর আর জানের ভয় করি নাই। …আমি নীলা ভাবীর জন্য ভিডিও পোস্ট করেছি। যে এটা আত্মহত্যা নাও হতে পারে, এটা খুন। মুখ দিয়ে অন্য কথা বের হয়ে গিয়েছে।”

চিত্রনায়ক সালমান শাহ স্ত্রী সামিরাকে নিয়ে যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, সেখানেই একটি ফ্ল্যাটে রুবি থাকতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় তার উপস্থিত থাকার তথ্যও রয়েছে।

তবে নতুন ভিডিওতে রুবি বলেন, “আমি কিন্তু কোনো হত্যা বা আত্মহত্যার সাক্ষী ছিলাম না। কিছুই দেখিনি আমি। আমি শুধু ওখানে গেছি আর সামিরার কাণ্ডকারখানা দেখেছি। যা কিছু আমি সব কিন্তু সামিরার মুখ থেকে শোনা। বাইরের কোনো মানুষের কথা আমি শুনি নাই। সামিরার মুখ থেকে শুনেই আমি এতদিন আত্মহত্যা, আত্মহত্যা বলেছি। ইমনের মত এতবড় একজন অভিনেতার ময়নাতদন্তে গরমিল হবে এটা আমার চিন্তায় ছিল না।”

ওই ভিডিও প্রকাশের পর একের পর এক টেলিফোন আর ফেইসবুকে নানা জনের প্রশ্নে দৃশ্যত বিরক্ত রুবি বলেন, “বাঙালি কথা বুঝে না। … আমি মুখ দিয়ে একটা বলে ফেলছি। আমার স্বামীর প্রমাণটা আমি পেয়ে নিই, তারপর আমি দেখাব, স্বামী মারছে নাকি।”

মামলায় তাকে আসামি করার কারণ সম্পর্কে রুবির ভাষ্য, তার ছেলেকে দিয়ে সামিরা ‘কাপড়ের একটি পোটলা’ ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। সে কারণে সালমান শাহর বাবা তাকে আসামি করেছেন।

“আমার হাজব্যান্ডের ব্যাপারে এখনও কিছু জানি না আমি।… আমার ছেলেকে সামিরা একটা পোটলা দিয়েছিল ফেলতে, আমাদের ছাদে। আমি জানি না সেখানে কী ছিল। … এজন্য বলছি খুন। যে সামিরা তার হাজব্যান্ড মারা যাওয়ার পর… সে ওইসব কাপড় নিয়ে ব্যস্ত ছিল। … সামিরাকে কেন সামনে আনে না। ওর বাবা আর হাজব্যান্ড কেন কথা বলে?”

বুধবারই আরেকটি ভিডিওতে রুবি সামিরাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তোলেন।

“মানুষ আমারে নিয়ে পড়ে আছে কেন?  যার সাথে এতকিছু জড়িত সে হল সামিরা। ওর বাবা কথা বলে। খুন হইছে না আত্মহত্যা হইছে সেটার একটা তদন্ত হওয়া দরকার। আর সেই তদন্তে কে থাকবে? সামিরা ছাড়া কে থাকবে। সেইতো মূল ছিল। সেই-ই তো লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পেয়েছে। আমি কেন কথা বলব। ওরইতো কথা বলা দরকার। ওর বাপ কেন কথা বলে, ওর হাজব্যান্ড কেন কথা বলে। বাঙালির মাথায় বুদ্ধি থাকলে ২১ বছর ধরে এটা ঝুলে থাকত না।”

201total visits,1visits today

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.