‘সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে’ : ঘাটাইল পৌর মেয়র

টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান খান। তার এক বছরে প্রতিশ্রুতি ছিল রোডে লাইট লাগানো। এর ৭০ ভাগ লাগানো হয়েছে। আর একটি প্রতিশ্রুতি ছিল ড্রেন করা। সেই ড্রেনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এক বছরে দুটি প্রতিশ্রুতিই পূরণ করা হয়েছে।

ড্রেনের কাজ করতে গিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জড়িয়ে পড়েন মেয়র। তারপরও বিগত দিনে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের চেয়ে অনেক বেশি বরাদ্দ পেয়েছে।

মেয়র শহীদুজ্জামান দাবি করেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে অনেকটাই দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

তবে পৌরবাসীর মূল সমস্যা সামান্য বৃষ্টি হলেই চান্দসি, শান্তিনগর, সবুজবাগ ও খড়াবরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যাটি বেড়ে যায়। গেল বন্যায় পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটগুলো আশাতীতভাবে মেরামত করা না হওয়ায় পৌরবাসীর দুর্ভোগ রয়েই গেছে।

শহীদ আবদুস সাত্তার (স’মিল) রোডে ড্রেনের সংস্কার না করায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এতে ময়লা জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। যে বরাদ্দ ছিল তা ৯টি ওয়ার্ডে ভাগ করে দেয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান।

পৌরসভার পুরনো বিদ্যুৎ অফিস থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত বেশিরভাগ ফুটপাত চলে গেছে দখলদারিত্বের হাতে। ফলে পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পৌর মেয়র।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, পৌরসভার সব রাস্তাঘাট উন্নয়ন করা, শতভাগ লাইটিং করা, ওয়াটার সাপ্লাই স্থাপন করা, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হবে। মেয়র বলেন, ওয়াটার সাপ্লাইয়ের জন্য ইতিমধ্যে ২৭ কোটি টাকার অনুমোদন পেয়েছি।

আপনার বিরুদ্ধে পৌরবাসী বা অন্য কারও অভিযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, গত এক বছরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। আমি সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো কাজই করছি না। সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনে যা আছে সে অনুযায়ী আমি সব কাজ বাস্তবায়ন করি। সব অনুষ্ঠানে আমি ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি। নিজেও কোনো ঘুষ খান না বলে দাবি করেন তিনি।

বিগত ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডিমন্ত্রী প্রয়াত জিল্লুর রহমান ঘাটাইল পৌরসভাটিকে ‘খ’ শ্রেণীতে রূপান্তর করে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১১.০৮ কি.মি আয়তনের এ পৌরসভার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। মহিলা ও পুরুষ মিলে মোট ভোটার রয়েছে প্রায় ২০ হাজার। বর্তমানে পৌরসভাটি ‘খ’ শ্রেণী থেকে ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে।

প্রথমবারের মতো এখানে আওয়ামী লীগের টিকিট থেকে মনোনয়ন নিয়ে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন শহীদুজ্জামান খান। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকেই তার রাজনীতি শুরু। প্রথমে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। পরবর্তীতে ১৯৯০ থেকে ’৯১ পর্যন্ত ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক। তারপর জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্র সংসদের জিএস এবং পরবর্তীতে ভিপি নির্বাচিত হন।

বর্তমানে এখানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও ভোটের অবস্থান একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন গ্রুপিং ও দ্বন্দ্ব রেষারেষিতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

(খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-