সখীপুরে ৩ শিশুপুত্র নিয়ে স্ত্রী হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্ত্রী হত্যার বিচারের দাবিতে অসহায় তিন শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ ওসমান গণি। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সখীপুর প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এসময় বৃদ্ধ ওসমান গণির তিন শিশু সিফাত (১০), সুরুজ (৮) ও রিপন (৫) শিশুদের নানী কমলা বেগম, মামী পারভীন বেগম ও মামা নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বৃদ্ধ ওসমান গণি সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম স্ত্রী সাজেদা বেগম ও প্রথম পুত্র সোহেল রানা ওরফে শাহজাহান, কন্যা আসমা বেগম এবং পুত্রবধূ রূপা আক্তার মিলে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা বেগমকে (৩৫) নির্মমভাবে মারধর করে। দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। কিন্তু পুলিশ এখন হত্যা মামলা গ্রহণ করছেন না।

ওই বৃদ্ধের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিমা বংকী গ্রামে।

বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী মীর ওসমান গণি আরো বলেন, স্ত্রীকে সুস্থ্য করতে অনেক টাকা খরচ করেও বাঁচাতে পারলাম না । স্ত্রীকে হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, আমি একজন পঙ্গু মানুষ। রোজগার করতে পারি না। স্ত্রীই সংসারের হাল ধরেছিল। অবুঝ তিনপুত্র সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় দাঁড়াবো। আমি এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অপরাধ করেও অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও তিনি সম্মেলনে অভিযোগ করেন।

সখীপুর থানার সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম জানান, এ বিষয়ে প্রায় দুই আগে মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্টের ওপরই মামলার পরবর্তী করনীয় নির্ধারণ করা হবে বলেও যোগ করেন ওই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য : বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে মা রেখা বেগম (৩৫) ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ২৮ নভেম্বর রাতে জমিজমা সংক্রান্ত সৃষ্ট বিরোধে সৎ মা রেখাকে পুত্র সোহেল রানা, তার স্ত্রী, মা সাজেদা বেগম, বোন আছমা আক্তার ব্যাপক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে সখীপুর ও পরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এ ঘটনায় ওই রাতেই বাবা মীর ওসমান গণি ছেলে সোহেল রানাকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে সখীপুর থানায় অভিযোগ করেন।

(সখীপুর, ঘাটাইল ডট কম)/-

110total visits,2visits today