শাহজালাল (রহ:)-এর সিলেট সমাধিস্থলে ওরশ ; ভক্তদের ঢল, রোববার ভোরে আখেরী মুনাজাত

১৪ শতাব্দীতে যে সকল অলি-আউলিয়ারা বর্তমান বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন তাদের একজন হলেন হযরত শাহজালাল ইয়েমেনী (রহ.)। ভারত উপমহাদেশে খাজা মইনুদ্দীন চিশতী (রহ.)-এর পরে এই ভূ-খণ্ডে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। বাংলাদেশ আসাম তথা বৃহত্তর বঙ্গ ইসলামের আলোকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে যাঁর নাম সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং এদেশের সূফি, দরবেশ, আউলিয়াগণের মাঝে যাঁর প্রভাব ও মর্যাদা সবচেয়ে বেশী লক্ষ্য করা যায় তিনি সুলতানে বাংলা, হযরত মাওলানা শাহজালাল মুজারদ ইয়েমেনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। এতদঞ্চল ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণী নির্বিশেষে জনসাধারণের মাঝে তাঁর প্রতি ভালবাসা ও নামের মাহাত্ম্য ব্যাপক ও অতুলনীয়। তিনি তাঁর বহুমুখি গুণাবলি ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার কারণে বাংলার মুসলিম সমাজে বহু লকব বা গুণবাচক উপাধি দ্বারা বিভূষিত। বিভিন্ন শিলালিপি, ঐতিহাসিক ও মনীষীগণের বর্ণনা ও গবেষকগণের রচনাবলীতে সাধারণত এই লকবগুলি পাওয়া যায়ঃ শেখ, শায়খুল মাশায়েখ, কুতুব, মুজারদ, মখদুম, সুলতানুল বাংলা, আরিফান বুয়দ, কুতুব বুয়দ, মাওলানা, জালালুদ্দীন, তাবরিজী, ইয়েমেনী, কুন্যাভী, তাইজী, সিরাজী, প্রাচ্য-সূর্য, ইত্যাদি। তাঁর কুনিয়াত হল কোরাইশী।

 

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ১২ আগস্ট শনিবার থেকে শুরু হয়েছে বার্ষিক ওরশ। ওরশে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তদের ঢল পড়েছে। রোববার ভোরে সোয়া ৩টার দিকে আখেরী মোনাজাতের পর শিরনী বিতরণের মধ্যদিয়ে ওলিকুল শিরোমণির ৬৯৮তম ওরশের সমাপ্তি হবে। গত দু’দিন ধরে টানা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ভক্ত-আশেকানরা শাহজালালের মাজারে জড়ো হচ্ছেন দলে দলে। গিলাফও দিয়েছেন পবিত্র মাজারে।

 

শনিবার সকালে সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও মাজারে গিলাফ দিয়েছেন। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে মাজারে গিলাফ দিয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন কামরান, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন প্রমুখ। ওরশ উপলক্ষে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে রেখেছে পুরো মাজার এলাকা। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, ওরশ উপলক্ষে সিলেট মহানগর পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ওরশে আগতদের নিরাপত্তার জন্য ৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

 

(বাসস/ অনলাইন/ ঘাটাইল.কম)/-

93total visits,2visits today

Leave a Reply