রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশেই রয়েছে ভারত : ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা বলেছেন, ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে নেই- এ ধারণাটি ভুল। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই দেশই ভারতের বন্ধুপ্রতিম দেশ। এজন্য শুরু থেকেই এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে ভারত।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু শুধু বাংলাদেশ নয়, পার্শ্ববর্তী সব দেশের নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, খাদ্য ও বাসস্থান দিয়ে খুবই মহৎ একটি কাজ করেছে। রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনে ভারত সরকার কাজ করছে। এজন্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের আবাসনের জন্য ভারত সরকার ঘর তৈরি করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে সম্পন্ন হবে তা এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এরআগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মির্জাপুরে দানবীর রণদা সাহা প্রতিষ্ঠিত কুমুুদিনী কমপ্লেক্স চত্বরে পৌঁছলে সেখানে তাকে স্বাগত জানান, কুমুুদিনী কল্যাণ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতি সাহা, ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি, কুমুদিনী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল হালিম, কুমুদিনী হাসপাতালে পরিচালক ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার, সহকারী প্রশাসক সৈয়দ হায়দার আলী প্রমুখ।

এ সময় শ্রীংলার সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারী নবনীতা চক্রবতী, প্রেস এটাসিভ রঞ্জন মন্ডল।

তিস্তা চুক্তির বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। আশা করা যায়, বাংলাদেশের এ সরকারের সময়েই তিস্তা চুক্তি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হবে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বৃহৎ একটি সীমান্ত রয়েছে। নানা কারণে অনেক সময় তাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আমরা চলতি বছরে প্রাণহানির হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) প্রধানদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে উভয় দেশের সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান হর্ষ বর্ধন।

তিনি ভারতেশ্বরী হোমস পরিদর্শন করে ছাত্রীদের মনোজ্ঞ ডিসপ্লে উপভোগ করেন। হোমসের ছাত্রীদের মনোজ্ঞ শারীরিক কসরত উপভোগ করে তিনি সেখানে ছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। তরুণ প্রজন্মকে যা অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা করেন।

এ সময় তিনি কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার মানব কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের ভূয়ষী প্রশংসা করেন।

(ঘাটাইল ডট কম)/-