১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা জুন, ২০২০ ইং
ব্রেকিং নিউজ
উপসর্গে মারা যাওয়া গোপালপুরের ফার্মাসিস্ট প্রশান্ত করোনা পজিটিভকাভার্ডভ্যানে নেয়া হচ্ছিল চোরাই গরু, মধুপুরে আটক ৩ চোরটাঙ্গাইল হাসপাতালে করোনা উপসর্গে কালিহাতীর একজনের মৃত্যুপ্রতিবন্ধকতা পায়ে ঠেলে ঘাটাইলে প্রতিবন্ধী জাহানারা পেল জিপিএ-৫ভূঞাপুরে করোনা উপসর্গে একজনের মৃত্যুঘাটাইলের যুবক রাসেল ঢাকায় করোনা আক্রান্তমাস্ক না পরে বের হলে ৬ মাস জেল অথবা লাখ টাকা জরিমানা‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগণের কাছে নত হলেই সুবিধা হতো সরকারের’করোনায় এনটিভির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান মোস্তফা কামালের মৃত্যুঘাটাইলে নতুন করে চারজন করোনায় আক্রান্ত, পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

রাজা-বাদশাদের হেরেমপ্রথা ও যৌনাচার নিয়ে যতো কল্পকাহিনী (প্রথম পর্ব)

মে ১৫, ২০১৯

রাজা-বাদশা-সুলতান, আমীর বা সম্রাটদের রাজকীয় জীবন, ভোগবিলাস, যৌনতা, ক্রুরতা, প্রেম বা আত্মদর্শন কেমন ছিল বা রয়েছে; কে-ই-বা তাহা জানতে না চায়। কারণ রাজজীবন ও রাজপ্রাসাদ সাধারন মানুষের কাছে কৌতুহল উদ্দীপক প্রাচীনকাল থেকেই। মূল লেখায় যাবার আগে রাজা-বাদশাদের নিয়ে নিজস্ব উপলদ্ধি দুলাইনে বলতে চাই। পাঠক বন্ধু সমীপে এ জন্য ক্ষমাও চাচ্ছি। উচ্চশিক্ষা গ্রহনের সময় ইতিহাস বেছে নেয়ায় বন্ধুরা হাঁসাহাসি করতো। রাঁজহাস আর পাঁতিহাসের মতো অতি অপ্রয়োজনীয় ও অকর্মা সাবজেক্ট নাকি ইতিহাস।

লেখাপড়া শেষে চাকরি না খুঁজে রাজহাঁস আর পাঁতিহাসের মতো গুরুত্বহীন সাবজেক্টে অগত্যা কলেজে মাস্টারিতে নিলাম। কারণ এতে সর্বক্ষন রাজা, বাদশা বা সম্রাটদের সঙ্গে থাকা যাবে। কল্পনায় অতীতে চলে যাওয়া যাবে সহজেই।

রাজাবাদশাদের হেরেম প্রথা নিয়ে আজকের আলোচনা। তুর্কি হারেম বা হেরেম শব্দটির মূল অর্থ, রাজকীয় মহিলাদের নিরাপদ বাসস্থান। যেখানে পুরুষের প্রবেশ নিষেধ। হেরেম শব্দ ইংরেজিতে প্রথম আসে ১৬৩৪ সালে। তার মানে এই নয়, আগে হেরেম প্রথা ছিল না। যারা টিভিতে সুলতান সোলেমান দেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই হেরেমপ্রথা সম্পর্কে ধারনা রাখেন।

রাজাপ্রাসাদের সাথেই বিশেষ নিরাপত্তায় যে নারীমহল, তাকেই বলা হয় হেরেম। হেরেমে যেমন রাণী বা সম্রাজ্ঞীরা থাকেন, তেমনি থাকেন রাজকণ্যা, দাসী, উপপত্নী, ক্রীতদাসী ও খোজা।

প্রথমেই খোজা সম্পর্কে ধারনা দিয়ে নেই। সাধারনত আফ্রিকা যেসব কৃষ্ণকায় নিগ্রোদের দাস হিসাবে রাজাবাদশারা ক্রয় করতেন, তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় নপুংসক করা হতো। ফলে তাদের কোনো যৌন শক্তি থাকতো না। এদের দিয়েই হেরেমের নারীদের নিরাপদে এবং সহজেই পাহারার ব্যবস্থা হতো।

হেরেমে সাধারনত রাজাবাদশা ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারতেন না। তাও পূর্বাহ্নে বার্তা পাঠিয়ে, রাজমাতার অনুমতিক্রমে প্রবেশ করতেন তিনি। হেরেমের বিশেষ কক্ষে, পত্নী বা উপপত্নীদের সাথে, সম্রাট বা সুলতানরা রাত যাপন করতেন। একাধিক স্ত্রী বা উপপত্নী থাকা সত্বেও পছন্দমতো বাঁদী, দাসী বা ক্রীতদাসীকে শয়ন কক্ষে পাঠানোর রেওয়াজ ছিল।

বলা অনাবশ্যক, ইসলামে ক্রীতদাসীর সাথে যৌনসম্ভোগ নিষিদ্ধ নয়। কারণ কেনা বাদীর জীবনমরনের প্রভূ হলেন ক্রেতা। এজন্য মধ্যযুগ জুড়ে মুসলিম শাসকরা দেশবিদেশ থেকে, শতশত সুন্দরী ক্রীতদাসী ক্রয় করতেন। আবার অনেক সময় বৈদেশিক সম্পর্কের সুবাদে, কূটনৈতিক উপঢৌকন হিসাবে ও সুন্দরী ক্রীতদাসী মিলতো।

যেমন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব চৈনিক রাজার কূটনৈতিক শুভেচ্ছা হিসাবে দশজন চায়নীজ সুন্দরী উপঢৌকন পেয়েছিলেন। এদের মধ্যে চৈনিক রাজকীয় পরিবারের সন্তান, চাংচুং এতোটাই সুন্দরী ছিলেন যে, সম্রাট পুত্রের সাথে তার বিয়ের অনুমতি দেন। তবে আওরঙ্গজেবকে যেহুতে জেন্দাপীর বলা হতো, তজ্জন্য তিনি চায়নীজ সুন্দরীর কাউকেই উপপত্নী বা বাদী হিসাবে হেরেমে প্রবেশের অনুমতি দেননি। তিনি আগ্রহী আমত্যদের মধ্যে এসব নারীদের বন্টন করে দেন।

অবশ্য আওরঙ্গজেব, বাদশা বাবুর ও সম্রাট হুমায়ুন বাদে সকল মুঘল সম্রাটের হেরেমে শত শত উপপত্নী, বাঁদী বা ক্রীতদাসী থাকতো। মুঘল হেরেম অধ্যায় নিয়ে যখন অালোচনা করবো, তখন মুঘলদের ভোগবিলাস ও যৌনাচার নিয়ে মজার আলোচনা করা যাবে।

যে কথা বলছিলাম, রাজা-বাদশারা ক্রীতদাসীদের মধ্যে যাকে পছন্দ করতেন তাদেরকে হেরেমে রাখার অনুমতি দিতেন। তবে সুলতান বা সম্রাটের শয়ন কক্ষে পাঠানোর আগে ওইসব ক্রীতদাসীদের রাজকীয় আদবকায়দা ও রাজকীয় যৌনাচার শেখানো হতো। আর এ শিক্ষা দিতেন হেরেমের অভিজ্ঞ দাসী, উপপত্নী বা সম্রাজ্ঞী; যারা সম্রাট বা সুলতানের কামাচার সম্পর্কে পূর্বাভিজ্ঞতা থাকতো।

মুঘল হেরেমে অনেক সময় ক্রীতদাসীকে কামাচার শেখাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হেরেমে সমমৈথুন বা সমকামাচার এর মতো বিকৃতি ঘটতো। সম্রাট জাহাঙ্গীর তো একবার হেরেমের এ অনাচার বা বিকৃতির জন্য অগ্নিশর্মা হয়ে উঠেন। তিনি সমকামিতার অভিযোগে প্রায় তিনশতাধিক ত্রীতদাসী বা উপপত্নীকে জীবন্ত প্রোথিত করেন।

ইসলামে ক্রীতদাসীদের বিবাহ ছাড়াই যেহেতু যৌনসম্ভোগে বিধিনিষেধ ছিলোনা, সেহেতু মধ্যযুগে এমনকি এ যুগেও মুসলিম সুলতান বা বাদশারা হেরেমে অবাধ যৌনাচার করে থাকেন। বতর্মান বিশ্বে এর নিকৃষ্ঠ নজীর দক্ষিনপূর্ব এশিয়ার মুসলিম রাষ্ট্র ব্রুনাই। দেশটি এক সময় মালয়েশিয়ার অঙ্গ রাজ্য ছিল। কয়েক দশক আগে এটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হয়। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনাই সফর করে এসেছেন। ধনী রাষ্ট্রটির সাথে বাংলাদেশের বেশকটি চুক্তি ও হয়েছে।

ব্রুনাই এখন সুলতান শাসিত রাষ্ট্র। সুলতানের নাম হাসান আল বলখিয়া। সর্ব শেষ খবরে, তিনি প্রায় সাঁতাশ বিলিয়ন ডলারের মালিক। পূর্ব পুরুষরা ইরানের বলখ থেকে এসেছেন বলে টাইটেল বলখিয়া। যাই হোক, হাসান আল বলখিয়ার রাজপ্রাসাদে একাধিক হেরেম রয়েছে। প্রায় হাজার খানেক সুন্দরী উপপত্নী বা রক্ষিতা ও রয়েছে তার হেরেমে।

সুলতান বলখিয়ার যৌনবিলাস ও হেরেমের শত শত রক্ষিতা থাকার খবরটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৯৭ সালে। ওই সালে আমেরিকায় “মিস যুক্তরাষ্ট্র” নির্বাচিত সুন্দরী শ্যানন মার্কেটিক মার্কিন আদালতে ব্রুনাইয়ের সুলতানের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। তিনি মামলার আরজীতে বলেন, সুলতান যৌনতার বিনিময়ে প্রতিদিন তিন হাজার ডলারের চুক্তিতে প্রাসাদে নিয়েছিলেন, কিন্তু কয়েকমাস পর তিনি নরমাল যৌনতার পরিবর্তে যৌনদাসীর মতো উদগ্র আচরণ শুরু করেন। যেটি ছিল চুক্তির বরখেলাপ। তিনি আরো অভিযোগ করেন, যৌনতার সময় সুলতান অস্বাভাবিক যৌনাচারে তাকে বাধ্য করতেন। এমন কি অন্যাণ্য উপপত্নীদের সামনে যৌনচারের আহবান জানাতেন। এসব অভিযোগ কতোটা সত্য ছিল, সেটি প্রমাণের আগেই, মামলাটির আইনগত মোকাবেলা না করে, সুলতান পর্দার অর্ন্তরালে কয়েক হাজার ডলারে নিস্পত্তি করেন।

থাইল্যান্ডের নতুন রাজা হিসাবে গত সপ্তাহে শপথ নিয়েছেন রাজা মহা ভাজিরালংকর্ণ। বয়স ছেষট্রি বছর। স্ত্রী ও সাত সন্তান থাকতেও সম্প্রতি দেহরক্ষী প্রধান সুথিদা তিদজাইকে চতুর্থ রাণী হিসাবে প্রাসাদে তুলেছেন। তার প্রাসাদে আরো শতাধিক উপপত্নী রয়েছে বলে মিডিয়া চাউর করেছে।

ভাজিরালং কর্ণের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ বিদেশে পড়াশোনার সময় তিন বৃটিশ নারীর সাথে লিভ টুগেদার ছিলেন। দেশে ফেরার সময় বিয়ের দাবি তুললে, থাই রাজপ্রাসাদ বিপুল অর্থে তা ফয়সালা করেন।

এবার আসা যাক, নিউজিল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর ডার্নের কথা। গত ১৫ মার্চ সেখানকার ক্রাইস্ট চার্চের দুটি মসজিদে, সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায়, অনেক মুসলিম প্রাণ হারান। জাসিন্ডা মুসলিম নারীদের মতো হিজাব পরে সারা বিশ্বে অালোডন সৃষ্টি করেন। সেই জাসিন্ডা কিন্তু কুমারী মাতা।

২০১২ সাল থেকে তিনি প্রেমিক গেফোর্ডের সঙ্গে লিভ টুগেদার করেন। ২০১৮ সালের জুনে কণ্যা সন্তান প্রসব করেন। এ সন্তান নিয়েই তিনি গত সেপ্টেম্বরে জাতি সংঘের সম্মেলনে যোগ দেন। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রেমিকের সাথে বাগদান সম্পন্ন করেন। অর্থাৎ টানা আট বছর লিভটুগেদার বা বিবাহ বর্হিভূত যৌনাচার রীতিসিদ্ধ করতে যাচ্ছেন।

যবনিকাঃ রাজাবাদশাদের জীবনযাপন, ভোগবিলাস, পাপপূণ্যের ধারনা সাধারন মানুষের থেকে আকাশপাতাল ব্যবধান। রাজর্ষি এবং রাজমহির্ষীদের নানা রসালো কাহিনী পৃথক পাঁচ পর্বে বিভক্ত করে আলোচনা করার অভিপ্রায়। যদি পাঠকরা তা সানন্দে গ্রহন করেন।

(প্রবীণ সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন এর ফেসবুক থেকে নেয়া, ঘাটাইলডটকম)/-

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

Adsense

Doctors Dental

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

বিভাগসমূহ

Divi Park

পঞ্জিকা

জুন 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

Adsense