মুহাম্মদ নজরুল চাঁনের দুইটি কবিতা

০১

নৈ:শব্দের অসীম সাগরে-

বাবা, হঠাৎ যদি তোমার সাথে দেখা হত তেরাস্তার মোড়ে
ক্লান্ত অবসন্ন দেহ তোমার
মলিন বস্ত্র পরিহিত
সবেমাত্র উঠে এলে কবরের অন্ধকার হতে।
তুমি বললে, ঈশ্বর এখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন
মৃতরা জীবন্ত হবে
পৃথিবীতে আর জ্বরা মৃত্যু থাকবে না।
বুদ্ধকে এসব চিন্তা করতে করতে আর গৃহত্যাগ করতে হবে না।
তুইও তো বুদ্ধের মত হয়ে গেছিস
তোর আকুলতা ঈশ্বরের হৃদয় স্পর্শ করেছে
তোর কাছে অনন্ত জীবনের স্বাদ
পৃথিবীতে বেচে থাকার মধ্যে।
যে জীবনে মৃত্যু আসে সে কিসের জীবন।
এখন থেকে বিশ্বভ্রমান্ডের মত
পৃথিবী সম্প্রসারিত হতে হতেই থাকবে
অনন্ত বিস্তারে বেড়ে যাবে পৃথিবীর পরিধি
দিগ্বিদিক ছিটিয়ে পড়বে মানব মন্ডলী।
স্টিফেন হকিং এসব দেখে উল্লসিত হবেন
বৈশ্বিক কনভেনসনে উষ্ণতা আর্দ্রতা রক্ষার কোন সমঝোতা স্বারকের প্রয়োজন হবে না।
অনুজীব নিধনে বিজ্ঞানীদের প্রানান্ত প্রচেষ্টা থাকবে না।
কিন্তু বাবা তোমার মৃত্যুতে আমার দেহ কবর হয়ে গেছে
নৈশব্দের অসীম সাগরে আমি আর মা সাতরে বেড়াচ্ছিলাম
হঠাৎ প্রভুর সমন এলো
আমি দিন-রাত্রি মাকে রক্ষার জন্যে ঈশ্বরের সমীপে আর্জি পেশ করলাম।
তিনি আমার সামনে প্রাচীর তুলে ফেললেন
গ্রেটওয়ালের চেয়ে অনেকউচু প্রাচীর।
আমার বাকরুদ্ধ হয়ে এল।
অবশেষে যা হবার তাই হল।
বাবা তুমি যদি মাকেও নিয়ে আসতে-
বাবা দৃঢ়তার সংগে বললেন
সেও তো চলে আসবে।
আমি বললাম
ঈশ্বর আমি এখন পরিতৃপ্ত
স্বর্গরাজ্য তোমার পৃথিবীতেই।

(কবিতাটি কবির আব্বার ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে আব্বাকে নিয়ে লেখা)

 

০২

আলো-

আমি এখন আর আমার পতনের শব্দধ্বনি নই।

আমি এখন জাগরনের জয়গান।।

যে নৈরাশ্যে দলিত ছিল আত্মার আলো সেখানে বিরামহীন আলোর আভা।।

আমার অস্তিত্বের প্রান্তে বাজে রনসংগীত বিপ্লবের আহবানে স্নায়ুতন্ত্রগুলো জেগে থাকে দুর্ণিবার।

একবার আমায় অধিষ্ঠিত কর তোমার পদতলে আমি জেগে উঠেছি আমি জেগে থাকব অনাদিকাল।

তোমার ডাকে স্থবিরতা ভেংগে গঙ্গার মত প্রবাহিত হয় রক্তধারা,

আমি হয়ে উঠি নজরুলের মত বিপ্লবী বিদ্রোহী।

যে অনাচার রাষ্ট্রের পরতে পরতে,

মানবতা কেদে আকুল আমাকে দাড়াতে দাও আমি চাবুক তুলব ওদের পিঠে।

তোমার শক্তিতে শক্তিমান হয়ে তোমার পদধুলোয় চেতনা দলিত করে নতুনরুপে আমাকে জন্ম দাও।।

 

(মুহাম্মদ নজরুল চাঁন, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল/ ঘাটাইল.কম)/-

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।