মুন পাওয়ার কোম্পানি ; টাঙ্গাইলে অস্বচ্ছ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ

টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎ নিয়ে জনগণের ভোগান্তির যেন শেষ হওয়ার নয়। প্রতিদিনের লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা তো আছেই তার সাথে যোগ হয়েছে অস্বচ্ছ বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি ভোগান্তি। গ্রাহক প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পেয়ে বিল পরিশোধ করেন। কিন্তু জেলায় গত এক দেড় বছর ধরে ঠিক মতো বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পাচ্ছে না আর যারা পাচ্ছে তাদের বিল আসছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।

 

জানা যায়, বিদ্যুৎ বিলের এই ভোগান্তি শুরু হয়েছে মূলত মুন পাওয়ার নামে এক কোম্পানিকে বিদ্যুৎ বিলের কাজ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। অভিযোগ উঠে বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসৎ কর্মচারী ঠিক মতো কাজ করে না। এছাড়া অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এলাকায় চোরাই বিদ্যুৎ সংযোগ দিতো। টাকার বিনিমিয়ে বিদ্যুৎ বিল কম করতো। গ্রাহকে হয়রানির হাত থেকে বাঁচাবার জন্য সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মুন পাওয়ারকে এই কাজের দায়িত্ব দেয়। বিদ্যুৎ অফিসের অনিয়ম ঢাকতে গিয়ে এখন আরো বেশি অনিয়ম ও ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ জনগণ।

 

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের নওগা গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ নেন। এর ছয় মাস পরে বিলের কাগজ পান তিনি। বিল আসে ৬ হাজার টাকার বেশি। তিনি তা পরিশোধ করেন যথা নিয়ম মেনে। এরপর আর বিলের দেখা নেই। তিনি দু’একবার অফিসে এসে মৌখিকভাবে বলে যান। দীর্ঘ আট মাস পর ২য় বারের মতো বিলের কাগজ পান। গত আট মাসে বিল আসে ৩২ হাজার টাকা। তিনি টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ অফিসে এসে যোগাযোগ করলে দেখা যায় ১২হাজার টাকা বেশি বিল করা হয়েছে।

 

শহরের শিমুলতলী এলাকায় বাসা ভাড়া থাকেন বেলাল হোসেন। দীর্ঘদিন যাবত ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। দুই মাস আগে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পান। ৬মাস পরে ২৪ হাজার টাকা বিল দেখে অবাক হন তিনি। মিটারে রিডিং দেখেন তাতে বিলের কাগজে ২০০ ইউনিট বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো আছে। অভিযোগ করেন বিদ্যুৎ অফিসে। তারা বেলাল হোসেনকে পরে বিল ঠিক করে পাঠাবেন বলেন, কিন্তু দুই মাস পার হলেও বিলের কাগজ পাননি তিনি।

 

পৌরসভার কাগমারা এলাকার বাসিন্দা শামসুল হক একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী। তিনি অভিযোগ নিয়ে আসেন তার বিলের কাগজে ২৫০ ইউনিট বেশি আছে। ভুক্তভোগীরা সবাই অভিযোগ করেন, তাদের বাসায় না গিয়ে এই বিল করা হয়েছে। মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী রঞ্জনও একই অভিযোগ নিয়ে আসেন।

 

প্রতিদিন এ রকম অসংখ্য অভিযোগ আসছে বিদ্যুৎ অফিসে। তাদের অভিযোগ নিচ্ছেন বিদ্যুৎ অফিস কিন্তু প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
অনেকে মিটার দেখে বা দৌড়াদৌড়ি করে বিল সংশোধন করছেন। আবার অনেক গ্রাহক ভুল বা অযৌক্তিক বিলের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করে দেন।

 

বিদ্যুৎ অফিসে কথা হয় কলেজ পাড়ার জাহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের কথা আর কি বলবো। এখন বিদ্যুতের সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি। লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণাতো প্রতিদিন আছেই। তারপর এখন আবার নতুন করে সময় মতো বিলের কাগজ না পাওয়া ও অতিরিক্ত বিলের ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। যারা বিলের কাজ করে তারা আমাদের মিটারের কাছে না গিয়ে অফিসে বসে নিজের ইচ্ছা মতো বিল করছে।

 

টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, এটি এখন আর আমাদের হাতে নেই। সরকার আমাদের কাছ থেকে নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মুন পাওয়ারকে দিয়েছে। তারাই মূলত বিল করছে এবং বিল উঠাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের বলার কিছুই নেই। আপনাদের অভিযোগ থাকলে তা জানান, অবশ্যই তারা সমস্যার সমাধান করে দেবেন।

 

মুন পাওয়ারের ম্যানেজার মামুন খান অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, আমরা কাজ হাতে নিয়েছি, কাজ শেষ করতে পারিনি। মোবাইলে মিটারের রিডিংয়ের ছবি উঠিয়ে তারপর আমরা বিল করি। আমাদের গ্রাহক সংখ্যা ৯৬ হাজার তাদের কাজ করতে একটু সময় লাগছে। দ্রুত আমরা কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। আমরা গ্রাহকদের ভোগান্তি যাতে না হয় সে চেষ্টা করবো।

বেশি ইউনিটের উঠিয়ে বিল করার কথা বললে, তিনি তা স্বীকার করেন এবং বলেন, আমরা যাদের বিল করার জন্য নিয়োগ দিয়েছি তারা অনেকে মিটারের কাছে না গিয়েই বিল করছে। এ বিষয়টি আমরা দেখছি।

 

(পরিবর্তন/ ঘাটাইল.কম)/-

183total visits,1visits today

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.