মির্জাপুরে মাদকের ভয়াল থাবা, পৌরর ২০ স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি

সারাদেশের মতো নিয়ন্ত্রণহীন মাদক টাঙ্গাইলের মির্জাপুরবাসীকেও গ্রাস করেছে। শহর, পাড়া-মহল্লা ছাপিয়ে মাদকের ভয়াল থাবা এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। মাদকের মরণ নেশা তারুণ্য, মেধা, বিবেক ও মনুষ্যত্বকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। স্নেহ-মায়া-মমতা ও পারিবারিক বন্ধন বিনষ্ট করছে। মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে মা-বাবাসহ প্রতিবেশীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

উচ্চবিত্তের পাশাপাশি এখন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েরাও মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নেশার বেড়াজালে আবদ্ধ। অভিজাত নেশাদ্রব্য হিসেবে পরিচিত ইয়াবা ও ফেনসিডিলের ব্যবহার মির্জাপুরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও মাদক সেবন থামছে না।

মাদক সেবনে আর্থিক প্রয়োজনীয়তা মেটাতে তরুণরা চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে। চুরির ঘটনা থেকে মির্জাপুর প্রেস ক্লাবও বাদ পড়েনি। গত ২৭ জানুয়ারি রাতে মির্জাপুর প্রেস ক্লাবের দরজা ভেঙে টিভি ও আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুরির সঙ্গে জড়িতরা মাদকসেবী।

মাদক বিক্রেতাদের নাম-পরিচয় সবার কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ও রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকার অভিভাবক, বাসাবাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে পৌর শহরের প্রায় ২০টি স্পটে শতাধিক নারী ও পুরুষ মাদক বিক্রি করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী, কয়েকটি বেসরকারি এনজিও, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর থানাসংলগ্ন শহীদ মিনার এলাকা, সদরের পুষ্টকামুরী মধ্যপাড়া, চুনাতিপাড়া নদীর ঘাট, দক্ষিণপাড়া ও পূর্বপাড়া ট্রেন স্টেশন এলাকা, মির্জাপুর পুরাতন ও নতুন বাসস্ট্যান্ড, কালীবাড়ী রোড, গাড়াইল, বাইমহাটী প্রফেসরপাড়া, বাইমহাটী পশ্চিমপাড়া, বাবুবাজার, কুতুববাজার, আন্ধরা, ঘোষপাড়া, সমবায় সুপারমার্কেটসহ অন্তত ২০টি স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের আজগানা, তরফপুর, পাথরঘাটা, লতিফপুর, বহুরিয়া, ভাওরা, কুর্ণী, ভাতগ্রাম, ছাওয়ালী বাজার, জামুর্কি, ধল্যা, বানাইল, ভাবখণ্ড বাজার, আনাইতারা, ওয়ার্শী, বাঁশতৈলসহ কমপক্ষে ২৫-৩০টি স্পটে জমজমাট মাদক বিক্রি ও সেবন চলছে।

দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে ট্রেন, মাইক্রোবাস অথবা যাত্রীবাহী বাসযোগে মির্জাপুরে আসছে এসব মাদক। এখানে ৩০০-৫০০ টাকায় প্রতি পিস ইয়াবা বিক্রি হয়। এক হাজার টাকায় মিলে এক বোতল ফেনসিডিল। প্রতিটি গাঁজার স্টিক ৫০-১০০ টাকা, হেরোইন ২০০ টাকা ও এক বোতল চোলাই মদ ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।

পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাজু মিয়া বলেন, ‘মাদক বিক্রি বন্ধে আমরা এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তাতেও মাদক সেবন থামছে না।’

মির্জাপুর থানার ওসি মিজানুল হক বলেন, ‘মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-