মির্জাপুরে নদীর চর ও বনাঞ্চলে টিলা কাটার মহোৎসব

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে নদীর চর ও বনাঞ্চলে চলছে টিলা কাটার মহোৎসব। সরকারি বনাঞ্চলের টিলার লাল মাটি যাচ্ছে ইটভাটায় এবং নদীর চরের বালি মাটি যাচ্ছে পুকুর ভরাট ও বাসাবাড়ি তৈরির জন্য। সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। অবাধে মাটি কাটার ফলে এলাকার রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, প্রাকৃতিক পরিবেশও পড়ছে হুমকির মুখে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাটি চুরি করে নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তরে বংশাই নদী, দক্ষিণে লৌহজং নদীর চর এবং পূর্বে গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের সরকারি বনাঞ্চলের টিলার মাটি চুরি হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাটি চোরদের মাঝে মধ্যেই জরিমানা ও জেলও দেওয়া হচ্ছে। অভিযানের কিছু দিন যেতে না যেতেই অদৃশ্য শক্তির বলে মাটি চোরের দল সিন্ডিকেট করে আবার মাটি কাটার মহোৎসবে নেমে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহল সিন্ডিকেট করে এ অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে।

ফতেপুরের ইমান আলী, চাকলেশ্বরের নিমাই সরকার ও হাঁটুভাঙ্গার আসাদ আলীসহ অনেকে অভিযোগ করেন, বংশাই নদীর পারদীঘি, হাটফতেপুর, আদাবাড়ি, থলপাড়া, ঘোনাপাড়া, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, হাতেমটাউন, কুমারজানি, যুগীরকোপা, রশিদ দেওহাটা, কোদালিয়া, হাঁটুভাঙ্গা, আজগানা এলাকায় নদীর আশপাশ ও চরের মাটি কাটা হচ্ছে।

একইভাবে লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়াচরপাড়া, গুনটিয়া ব্রিজ, চুকুরিয়া, উফুলকী, বরাটি, ইচাইল, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, বহুরিয়া, গেরামারা, কামারপাড়া, ওয়ার্শি, নাগরপাড়াসহ ২০-২৫টি স্থানে মাটি কাটা হচ্ছে।

এ ছাড়া গোড়াই, তরফপুর, আজগানা ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বনাঞ্চলের টিলার লাল মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি মহল।

পাহাড়ি এলাকা ও চরের মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে নেওয়ার ফলে এলাকার রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশও হারাচ্ছে স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে নেওয়ার ফলে মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ডুবাইল-ফতেপুর-ছাওয়ালী রোডসহ ৩০-৩৫টি আঞ্চলিক রোড ভেঙে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধুলা-বালিতে রাস্তা দিয়ে চলাচল মুশকিল হয়ে পড়েছে।

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগীরা প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করলে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা তাদের ভয় ও হুমকি দিয়ে থাকেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজগর হোসেন বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট, পাহাড় ও নদ-নদী জাতীয় সম্পদ। এগুলো রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। টিলা ও চরের মাটি যারা কেটে নিচ্ছে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-

78total visits,2visits today