মধুপুরে রূপা ধর্ষণ-হত্যা : রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ, আগামিকাল আসামিপক্ষের

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া আসামিদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের কার্যক্রমের শুনানী গ্রহন করেন। পরে বিচারক আগামিকাল বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিষেশ পিপি অ্যাডভোকেট একেএম নাছিমুল আক্তার, রাষ্ট্রপক্ষে সহায়তা করেন, মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী এস আকবর খান, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এমএ করিম মিয়া ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল ও অ্যাডভোকেট দেলুয়ার হোসেন।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি একেএম নাছিমুল আক্তার জানান, এই মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অজ্ঞাতনামা মহিলার মরদেহ হিসেবে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে পত্র-পত্রিকার খবর দেখে নিহতের ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় তার বোনের ছবি দেখে সনাক্ত করেন। পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের গাড়িটি জব্দ করে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়। আসামিরা সেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাইয়ুম খান সিদ্দিকী মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। ৩২ জনকে এই মামলায় সাক্ষী করা হয়। গত ৩ জানুয়ারি বাদির সাক্ষ্য গ্রহনের মধ্যদিয়ে সাক্ষী শুরু হয়। পরবর্তীতে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক, ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহনকারী চার জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সুরতহাল রিপোর্ট ও জব্দ তালিকা সর্বমোট ২৭জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষী প্রদান করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।

পিপি আরো জানান, সাক্ষ্য প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবি করেন। পরে আদালত আসামি পক্ষের যুক্তিতর্কের জন্য আগামিকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

এদিকে, আজ বুধবার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানবাধিকার আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, মানবাধিকার আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস আকবর খান, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, ওয়াজেদ আলী ও নিহত রূপার ভাই হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

এসময় বক্তারা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত পাঁচ আসামির ফাঁসির দাবি করেন এবং দ্রুত বিচার কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রূপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর এবং চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

(ঘাটাইল ডট কম)/-

107total visits,2visits today