মধুপুরে রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। আগামিকাল সোমবার(৫ ফেব্রুয়ারি) মামলার আইনগত বিষয় নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা।

রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রথম দফা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীদ্বয়। এরপর আদালত আধা ঘণ্টার জন্য মুলতবী করা হয়। আবার ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের আইনজীবীরা প্রথম দফায় আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

এরআগে সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। মামলার আসামিদের উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম চলে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিষেশ পিপি অ্যাডভোকেট একেএম নাছিমুল আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে সহায়তা করেন, মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী এস আকবর খান, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এমএ করিম মিয়া ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল ও অ্যাডভোকেট দেলুয়ার হোসেন।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি একেএম নাছিমুল আক্তার জানান, এই মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অজ্ঞাতনামা মহিলার মরদেহ হিসেবে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে পত্র-পত্রিকার খবর দেখে নিহতের ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় তার বোনের ছবি দেখে সনাক্ত করেন। পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের গাড়িটি জব্দ করে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়। আসামিরা সেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাইয়ুম খান সিদ্দিকী মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। ৩২ জনকে এই মামলায় সাক্ষী করা হয়। গত ৩ জানুয়ারি বাদির সাক্ষ্য গ্রহনের মধ্যদিয়ে সাক্ষী শুরু হয়। পরবর্তীতে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক, ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহনকারী চার জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সুরতহাল রিপোর্ট ও জব্দ তালিকা সর্বমোট ২৭জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষী প্রদান করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।
পিপি আরো জানান, সাক্ষ্য প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রূপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর এবং চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

(ঘাটাইল ডট কম)/-

91total visits,1visits today