মওলানার মাজারের খাদেম জব্বারের মৃত্যুতে অবসান ৪৩ বছরের বর্ণাঢ্য ইতিহাসের

বলা হয় মওলানা ভাসানীর ওফাতকালে বাংলাদেশ ও আসামে মিলিয়ে তাঁর মুরিদ সংখ্যা ছিল নয় লক্ষের বেশী, যাদের প্রায় সকলেই ‘ভদ্রলোকের’ ভাষায় চাষা-ভুষা। এই মানুষগুলোকেই মওলানা আন্দোলন করতে শিখিয়েছেন, কর্মী তৈরী করেছেন এদের মধ্য থেকেই। তেমনি একজন ছিলেন আবদুল জব্বার। ১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানীর ইন্তেকালের পর তাঁর মাজার শরীফের খাদেম হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। চলতি বছরের ১০ই মে ইতিহাসের সাক্ষি এই মানুষটি ইন্তেকাল করেন, ১১০ বছর বয়সে। অবসান হয় ৪৩ বছরের এক বর্ণাঢ্য ইতিহাসের।

জানা যায়, আবদুল জব্বারের জন্ম আসামের শালমারাতে। সেখানেই তিনি দেখা পেয়েছিলেন তাঁর মুর্শিদ ভাসানী হুজুরের। আসামের আন্দোলন শেষে মওলানা যখন পূর্ব বাংলায় পাড়ি জমান, নিতান্ত কিশোর বয়সী আবদুল জব্বার গুরুর সাথে বেড়িয়ে পড়েন নিজের পরিবার এবং বিষয়-সম্পত্তির দিকে না তাকিয়েই। এরপর থেকে আজীবন তিনি মওলানার সেবাতেই ছিলেন।

১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানীর ইন্তেকালের পর তাঁর মাজার শরীফের খাদেম হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। অন্তরের সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে গুরুর দরবারের সেবা করে গেছেন জব্বার ফকির।

সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মাজার কমিটির দেয়া সম্মানী ছাড়াও খাদেম হওয়ার কারণে জিয়ারতে আসা অনেকেই তাঁর হাতে কিছু কিছু টাকা দিত। সেসব টাকা জমিয়ে রেখে মওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত এতিমখানা এবং মুসাফিরখানায় দান করে দিতেন তিনি।

আসামের শালমারাতে তাঁর বড় বোন সম্পত্তি বিক্রি করে ভাই আবদুল জব্বারের ভাগের টাকা পাঠিয়ে দেন (প্রায় ৯০ হাজার), সেই টাকা দিয়ে শেরপুরের বনকুড়ায় নিজ জমিতে মওলানা ভাসানীর নামে খানকাহ্‌ করে গেছেন, আর সে জমির বর্তমান আনুমানিক মূল্য ছিল ২৪ লক্ষ টাকা।

২০১৯ সালের ১০ মে বহু ইতিহাসের সাক্ষি এই মানুষটি ইন্তেকাল করেছেন, বয়স হয়েছিল আনুমানিক ১১০ বছর। আমরা পরম শ্রদ্ধার সাথে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

মওলানা ভাসানীর মাজার শরীফে বাস্তববাদী কিন্তু ভালোবাসায় ভরপুর নির্লোভ একজন খাদেমের বড্ড প্রয়োজন এখন। কেউ যে এগিয়ে আসছেন না তা নয়, তবে ‘যোগ্য’ ব্যক্তি দুর্লভ। সর্বস্তরের সকল মানুষের জন্য এই স্থানটি যেন পবিত্র-ই থাকে, রাজনীতি বা ব্যাবসার দুর্গন্ধ যেন না পৌঁছুতে পারে সে জন্য ব্যবস্থা নেয়া খুবই জরুরী।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-