‘ব্যবহার জনসংখ্যা অনুযায়ী বিশ্বে বাংলা লিপির অবস্থান ষষ্ঠতম’

লিখন পদ্ধতি বলতে এক ধরনের প্রতীক-পদ্ধতিকে বোঝায়, যা কোন ভাষার বিভিন্ন উপাদান ও বিবৃতি লেখায় প্রকাশে বা মুদ্রণে সাহায্য করে। লিখন পদ্ধতির ঠিক কবে জন্ম হয়েছিল, তা সঠিক জানা যায় না। বিশ্বের নানা দেশে তাই লিপির উদ্ভব নিয়ে প্রচলিত আছে নানা উপকথা। ‘বাংলা’ তেমনই একটি লিখন পদ্ধতি। ব্যবহার জনসংখ্যা অনুযায়ী বিশ্বে প্রথম অবস্থানে রোমান লিপি, ২৫তম অবস্থানে হিব্রু লিপি এবং বাংলা লিপির অবস্থান এতে ষষ্ঠতম।

দূরের মানুষের কাছে ভাব প্রকাশের উপায় খুঁজতে গিয়েই শুরু হয় লিখন পদ্ধতি আবিষ্কারের প্রয়াস। প্রথমে চিত্র অঙ্কন করে ভাব প্রকাশের প্রচেষ্টা। কিন্তু চিত্র দিয়ে বস্তুত প্রকাশ করা যায় মাত্র, সূক্ষ্ম অবিচ্ছিন্ন ভাবের প্রকাশ ঘটানো যায় না। তাই শুরু হয় ভাব বা ব্যঞ্জনের প্রতিনিধি হিসেবে সাংকেতিক চিহ্ন আবিষ্কারের প্রয়াস, যা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে বর্ণমালা আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। পৃথিবীর প্রায় সব লিপিই একটি মূল লিপি থেকে উদ্ভব হয়েছে। আর এ লিপির নাম হলো ফিনিশীয় লিপি। প্রাচীন ফিনিশীয়রা প্রথম ব্যঞ্জনবর্ণের আবিষ্কার করে। গ্রিকরা এর সঙ্গে যোগ করে স্বরবর্ণ, যা থেকে আধুনিক ইউরোপীয় বর্ণমালার উদ্ভব। কিন্তু বাংলার লিপি ও সংখ্যাতত্ত্বের লিখন পদ্ধতির রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

বর্তমানের আধুনিক বিশ্বে লিখন পদ্ধতিসমূহগুলো হচ্ছে মতামুতি ছয়টি। এগুলো হচ্ছে- ছবি অক্ষর লিখনপদ্ধতিসমূহ, শব্দ লিপি, আব্জাদ, শব্দীয় বর্ণমালা, অশব্দীয় বর্ণমালা লিখনপদ্ধতিসমূহ।

দেখে নেওয়া যাক ব্যবহার জনসংখ্যা অনুযায়ী প্রথম ১০টি লিখন পদ্ধতি

১। রোমান লিপি। Latin। এটি একটি অশব্দীয় বর্ণমালা লিপি। বিশ্বর প্রায় ৪৯০’কোটি মানুষ এই লিপি ব্যবহার করে। এই লিপি পদ্ধতি ইংরেজি ভাষা, স্পেনীয়, ফরাসি, পর্তুগিজ, মালয়, ইন্দোনেশীয়, জার্মান, তুর্কি, ভিয়েতনামীয়, ইতালীয়, পোলীয়, ওলন্দাজ, সুয়েডীয়, লাতিন, অন্যান্য ভাষায় বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়।

২। চীনা লিপি। 汉字 漢字। এটি একটি ছবি অক্ষর লিপি।বিশ্বর প্রায় ১৩৪’কোটি মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন। এই লিপি চীনা ভাষা সমূহ, জাপানি (কাঞ্জি), কোরীয় (হাঞ্জা), ভিয়েতনামীয় (চ্যুনম্) ভাষায় এটি ব্যবহৃত হয়। গণচীন, তাইওয়ান, মাকাও, হংকং, জাপান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার মানুষ এই লিপি ব্যবহার করে মনের ভাব প্রকাশ করে।

৩। আরবি লিপি। العربية। এটি একটি আব্জাদ লিপি। বিশ্বর প্রায় ৬৬’কোটি মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন। আরবি ভাষা, ফার্সি, উর্দু, পাঞ্জাবি, পশতু, সিন্ধি, বেলুচি, মালয়, উইগুর, কাজাখ ভাষায় এই লিপি ব্যবহৃত হয়। আরব বিশ্ব, পাকিস্তান, ভারত, পশ্চিম চীনা, মালয়েশিয়ার মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন।

৪। দেবনাগরী লিপি। देवनागरी। এটি একটি শব্দীয় বর্ণমালা লিপি। বিশ্বর প্রায় ৪২’কোটি মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন। হিন্দি ভাষা, মারাঠি, নেপালি, সংস্কৃত ভাষায় এটি ব্যবহৃত হয়। ভারত, নেপালের মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন।

৫। সিরিলীয় লিপি। Кирилица। এটি একটি অশব্দীয় বর্ণমালা লিপি। বিশ্বর প্রায় ২৫’কোটি মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন। রুশ ভাষা, ইউক্রেনীয়, বেলারুশীয়, বুলগেরীয়, কিরগিজ, কাজাখ, মঙ্গোলীয়, সার্বীয়, তাজিক ভাষায় এটি ব্যবহৃত হয়। পূর্ব ইউরোপ, উত্তর এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন।

৬। বাংলা লিপি। বাংলা। এটি একটি শব্দীয় বর্ণমালা লিপি। বিশ্বর প্রায় ২২’কোটি মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন। বাংলা ভাষা, অসমীয়া, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, মৈতৈ মণিপুরী ও ককবরক ভাষায় এই লিপি ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের (পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, অসম, ঝাড়খণ্ড, মণিপুর) মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন ।

৭। কানা লিপি (হিরাগানা/কাতাকানা)। 仮名かな カナ। এটি একটি শব্দ লিপি। বিশ্বর প্রায় ১২’কোটি মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন। জাপানি ভাষা, ওকিনাওয়া, আইনু ভাষায় এটি ব্যবহৃত হয়। জাপানের মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন।

৮। গুরুমুখী লিপি। ਗੁਰਮੁਖੀ। এটি শব্দীয় বর্ণমালা লিপি। বিশ্বর ১০’কোটি মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন। পাঞ্জাবি ভাষায় এটি ব্যবহৃত হয়। পাকিস্তান, ভারতের মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন।

৯। জাভানীয় লিপি। ꦲꦤꦕꦫꦏ। এটি শব্দীয় বর্ণমালা লিপি। বিশ্বর ৮’কোটি মানুষ এটি ব্যবহার করেন। জাভানীয় ভাষায় এটি ব্যবহৃত হয়। জাভা দ্বীপ এলাকার মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন।

১০। হান্‌গেউল্ লিপি। 한글 조선글। এটি অশব্দীয় বর্ণমালা লিপি। বিশ্বর ০৭’কোটি ৮০’লাখ মানুষ এই লিপি ব্যবহার করেন। কোরীয় ভাষায় এটি ব্যবহৃত হয়। উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, গণচীনের (ইয়ান্বিয়ান্ ও চাংবাই রাজ্য) মানুষ এই লিপি ব্যবহার করে মনের ভাব প্রকাশ করেন।

তথ্য সুত্র- উইকিপিডিয়া

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-

437total visits,4visits today