বৃহস্পতিবার বরিশাল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ ছয় বছর পর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদে বিভাগীয় শহরটিতে এটি তার প্রথম সফর। বিগত মহাজোট সরকারের আমলে পরপর দু’বার তিনি বরিশাল সফর করেছিলেন।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ২১ মার্চ তিনি বরিশাল আধুনিক নৌবন্দর উদ্বোধন এবং বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম, মেরিন একাডেমি, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

এবারের সফরে তিনি পূর্বপ্রতিশ্রুত মোট ৩৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং ৩৩টির ভিত্তি স্থাপন করবেন। এরপরও ভোলার গ্যাস বরিশালে সরবরাহ, মেডিকেল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সন্ধ্যা নদীর ওপর সেতুসহ প্রায় এক ডজন দাবি নিয়ে অপেক্ষায় আছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে বরিশালের বাকেরগঞ্জ সীমান্তে পায়রা নদীর তীরে নির্মিত ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস’ উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তিনি সকাল ১০টায় সেনানিবাস উদ্বোধন ও সাত পদাতিক ডিভিশনসহ ১১টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন, প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন।

এ ছাড়া বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামসহ ৩৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। বরিশাল আইটি পার্ক, শহীদ সুকান্ত বাবু শিশুপার্ক, কীর্তনখোলা ভাঙনরক্ষা বাঁধসহ ৩৩টি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করবেন।

বিকেল ৩টায় নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বরিশাল বেতার সরাসরি সম্প্রচার করবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বরিশাল নগরীকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। সড়কে আল্পনা, রঙবেরঙের পতাকা ও সুদৃশ্য তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে। জনসভাস্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যানের মঞ্চের পশ্চিম পাশে নির্মাণ করা হয়েছে প্রতীকী পদ্মা সেতু। মঞ্চের পাশেই থাকবে উন্নয়নচিত্র প্রদর্শনীর জন্য ডিজিটাল বিলবোর্ড।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। র‍্যাব ও পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করেছে।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস এমপি সমকালকে বলেন, মহাসমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভোলার গ্যাস বরিশালে সরবরাহ করা, বরিশালে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাবুগঞ্জে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বরিশাল বিমানবন্দর ও শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিকমানের করে গড়ে তোলা, বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ওপর সেতু এবং কীর্তনখোলায় ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ প্রায় এক ডজন উন্নয়ন দাবি জানানো হবে।

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি বরিশাল বিভাগবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব দাবি উপস্থাপন করবেন। এ ছাড়া বরিশাল অঞ্চলে একটি ইপিজেড নির্মাণ, সাবেক বরিশাল সদর উত্তর মহকুমার আওতাধীন হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা এবং কাজীরহাট থানা নিয়ে নতুন জেলা ঘোষণা, ‘৭৩ সালের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং নদীভাঙন রোধে পরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানানো হবে।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বরিশালের শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা গেলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

নৌপরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, নদীবহুল দক্ষিণাঞ্চলের নৌযোগাযোগ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে কীর্তনখোলা নদীসহ বরিশাল-চাঁদপুর-ঢাকা এবং বরিশাল-চট্টগ্রাম নৌপথের বিভিন্ন অংশের নাব্য সংকট নিরসন একান্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে সারাদেশের সঙ্গে মোংলা সমুদ্রবন্দরের নিরাপদ নৌযোগাযোগ নিশ্চিত করতে বরিশাল-মোংলা-খুলনা নৌপথের ‘গাবখান চ্যানেল’ খনন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে বিমান যোগাযোগের আওতায় আনারও দাবি রয়েছে।

(সমকাল, ঘাটাইল ডট কম)/-