বৃক্ষ রোপণের এখনই সময়

বকুল হাসান খানঃ চলছে বৃক্ষরোপণ অভিযান। জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। সঠিক স্থানে উপযুক্ত চারা লাগানোর এখনই সময়। আপনার কাছের জেলা ও উপজেলার বৃক্ষমেলা থেকে চারা সংগ্রহ করতে পারেন। সুস্থ-সবল মধ্যমাকৃতির সঠিক জাতের চারা সরকারি বেসরকারি নার্সারি অথবা আপনার বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিগত নার্সারি থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। পরবর্তী বংশধরদের কথা চিন্তা করে ফলদ ও ঔষুধি গাছের চারা লাগানোর প্রতি বেশি নজর দিতে পারেন। এতে ফল, ওষুধ এবং কাঠ সবই পাবেন। বন্যামুক্ত, আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে এবং সূর্যালোক পড়ে এমন জায়গায় চারা রোপণ করা উচিত। দো-অাঁশ, বেলে দো-অাঁশ, এঁটেল দো-অাঁশ, উর্বর, সুনিষ্কাশিত ও উঁচু স্থানে চারা রোপণ করা উত্তম।

আসুন জেনে নিই কোথায় কোন চারা রোপণ করা উচিত_
বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে : বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে রোদ ও আলোর জন্য ছোট এবং কম ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। দক্ষিণের জন্য সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম, মেহেদী গাছ লাগাতে পারেন।

বসতবাড়ির পূর্ব-পশ্চিম পাশে : বসতবাড়ির পূর্ব-পশ্চিম পাশে মাঝারি উঁচু এবং মাঝারি ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। এতে সকাল-সন্ধ্যায় বাড়ির আঙিনায় আলো থাকবে। পূর্ব-পশ্চিম পাশের জন্য বাউকুল, আপেলকুল, সফেদা, আম্রপালি আম, লিচু, খেজুর, ডালিম, কলা, আতা, বেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন গাছ লাগাতে পারেন।
বসতবাড়ির উত্তর পাশে : বসতবাড়ির উত্তর পাশে বড় ও উঁচু গাছ লাগালে ঝড়-তুফান প্রতিরোধ হয়। এখানে আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙ্গা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরীতকী, আকাশমনি, বাঁশ ইত্যাদি গাছ রোপণ করতে পারেন।
প্রতিষ্ঠানে : মসজিদ, মন্দির, গির্জা, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে ও আশপাশে শোভাবর্ধনকারী এবং ছায়াদানকারী গাছ যেমন, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, তাল, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, আম, কাঁঠাল, লিচু গাছ রোপণ করতে পারেন।
পতিত জমিতে : সব ধরনের গাছ যেমন_ আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙ্গা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরীতকী, আকাশমনি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, বাঁশ ইত্যাদি গাছ রোপণ করতে পারেন।
হাটবাজারে : ছায়াদানকারী গাছ রোপণ করা উচিত। এখানে_ আম, কাঁঠাল, জাম, সেগুন, দেবদারু, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, কৃষ্ণচূড়া, বটগাছ রোপণ করা যেতে পারে।
রাস্তার পাশে : রাস্তার পাশে উঁচু ও ডালপালা ছাঁটাই করে রাখা যায় এমন গাছ রোপণ করতে হবে। যেমন_ মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরীতকী, আকাশমনি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, বাবলা, ইপিল-ইপিল, শিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করতে পারেন।
রেল লাইনের ধারে : রেল লাইনের ধারে মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমনি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, শিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করতে পারেন।
বাঁধের ধারে : যেসব গাছের শিকড় শক্ত, বিস্তৃত যেমন_ বট, আমড়া, বাঁশ, মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমনি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, কৃষ্ণচূড়া, বাবলা, কড়ই ইত্যাদি গাছ রোপণ করতে পারেন।
জমির আইলে : যেসব গাছের শিকড় কম বিস্তৃত, কম ছায়াদানকারী, ডালপালা ছাঁটাইযোগ্য যেমন_ মেহগনি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর গাছ রোপণ করতে পারেন।
নিচু জমিতে : জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এমন গাছ রোপণ করতে হবে। যেমন_ পিটালি, বেত, মূর্তা, বাঁশ, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি গাছ রোপণ করা উচিত।
পুকুর পাড়ে : পুকুর পাড়ের মাটি না ভাঙ্গে এবং শোভাবর্ধন করে যেমন_ সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম, কলা গাছ লাগাতে পারেন।
নদীর ধারে : পানি সহিষ্ণু, শক্ত, মজবুত ও বড় হয় এমন গাছ রোপণ করা উচিত। যেমন_ শিমুল, ছাতিম, পিটালি, বেত, মূর্তা, বাঁশ, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি গাছ রোপণ করা উচিত।
উপকূলীয় অঞ্চলে : লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে, হালকা পাতা বিশিষ্ট গাছ যেমন_ সুন্দরী, ছৈলা, গরান, গেওয়া, গোলপাতা, মান্দার, কড়ই, বাবলা, নারিকেল রোপণ করা উচিত।
যেখানে চারা পাবেন : সরকারি-বেসরকারি নার্সারি, বর্তমানে জেলা ও উপজেলার বৃক্ষমেলা, এনজিও নার্সারি, ব্যক্তিগত নার্সারি, বিএডিসির নার্সারি, কৃষি গবেষণার নার্সারিতে ভালো চারা পাওয়া যাবে। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য কলমের চারা রোপণ করা উত্তম। যে কোনো পরামর্শের জন্য আপনার নিকটের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন।

(ঘাটাইল.কম)/-

202total visits,1visits today

Leave a Reply