বিশ্ব ভালবাসা দিবসে প্রস্তুত ঘাটাইল

তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারা বিশ্বের মতো টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে তরুণ-তরুণীদের মাঝেও ভালোবাসা দিবসের সুবাতাস ছড়িয়ে পড়েছে। ভালোবাসার উৎসবে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঘাটাইল। এ উৎসবের ছোঁয়া লাগবে সকলের প্রাণে।

সখি ভালোবাসা কারে কয়, সে কি কেবলই যাতনাময়, সে কি কেবলই চোখেরও জল, সে কি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এভাবেই ভালোবাসার মানুষকে কখনও বাঁ দুঃখের সাথে চিনেছেন। আবার ভালোবাসি ভালোবাসি এই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাঁজায় বাঁশি, ভালোবাসি ভালোবাসি। এভাবে তার প্রিয়তমাকে ভালোবেসে মনের আকুলতাকে গানে রুপ দিয়েছেন।ভালোবাসার অর্থ যে গভীর দ্যোতনাময়। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দিনটি শুধুই ভালোবাসার।

এদিকে বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুত ঘাটাইলবাসী। শহরের বিভিন্ন স্থানে বসেছে অস্থায়ী ফুলের দোকান। এসব দোকান সেজেছে বাহারি রঙের ফুলে। দোকান থেকে ফুল কিনে প্রিয়জনকে উপহার দিবে প্রায় সকলেই। আগে থেকেই শাহবাগ, বন্দরসহ দূর দুরান্ত থেকে ফুল কিনে মজুদ করে রেখেছে ফুল ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত আয়োজনে ডিজে, সঙ্গীত সন্ধ্যাসহ বিভিন্ন আয়োজন করেছে ঘাটাইলের তরুন সমাজ।

ফাল্গুনের প্রথম রাত থেকেই দিনটি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন সহ নানা সাজে সেজেছে শহরের বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানগুলো। রেস্টুরেন্টগুলোও নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছে দিনটি উপলক্ষে বিশেষ খাবার মেন্যু এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে। অনেক ফাস্টফুড ভ্যালেন্টাইন উপলক্ষে বিশেষ বেলুন, লাইটিং করে তাদের গ্রাহক আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

মুঠোফোনের মেসেজ, ই-মেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ে পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় হয়ে উঠবে। অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায়। পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেয়া হয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান স¤্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদ- দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যু দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

ভ্যালেনটাইনস ডে সর্বজনীন হয়ে ওঠে আরো পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরো একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত।

৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনসডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

(আব্দুল লতিফ, ঘাটাইলডটকম)/-