বিশ্বজিৎ হত্যাকারীদের খালাস দেয়া বিচারপতি কুদ্দুস নিজেই খুনের মামলার প্রধান আসামী!

১৯৮৮ সালের ১৭ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল লতিফ হলের ছাত্রশিবিরের কর্মী আসলাম হোসেনকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯৮৮ সালের ১৮ নভেম্বর রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের রুমমেট ছাত্রশিবিরের কর্মী নওয়াব আলী। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় তৎকালীন জাসদ ছাত্রলীগ নেতা রুহুল কুদ্দুস বাবুকে। রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় দায়েরকৃত মামলা নম্বর ১৪।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, রুহুল কুদ্দুস বাবু কিরিচ দিয়ে আসলামকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

 

আসলাম হত্যাকান্ডের পর তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহ আলমের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও মামলায় পুলিশি তদন্তের পরই প্রধান আসামী রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চার্জশীট দাখিল করা হয়।

 

২০১০ সালের ৮ এপ্রিল রাজশাহীর ৩নং অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ৯ জনের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এর তিনদিন পরেই রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ১৭ জনকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়। এতেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে পড়ে সরকার কেন রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ৯ জনের তড়িঘড়ি করে মামলা প্রত্যাহার করেছে।

 

অন্য যাদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়া হয় তারা হলেন- আলী রায়হান, মুন্না সাহা, মাসুদ পারভেজ নওশাদ, আহসানুল কবির বাদ, আইয়ূব আলী, রবিউল আলম বাবু, ফিরোজ আহমেদ ও আবদুল করিম শিকদার। এরা সবাই জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা।

 

রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আসলামের বাবা জিন্নাত আলী ২০১০ সালের আগস্ট মাসে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। একই বছরের ২২ আগস্ট আবেদনটি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বাদী পক্ষ। পরবর্তীতে তাদের এ আবেদনও খারিজ দেন আপিল বিভাগ।

 

২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এ হত্যা মামলাটির অন্য আসামিদের নামও রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

 

(যুগান্তর, ১০ জুন ২০১৪, মঙ্গলবার/ সংগ্রাম, ০১ জুন ২০১০/ ঘাটাইল.কম)/-