বিনাদোষে নাগরপুরের জাহালমের জেল খাটার পেছনে দায়ী কারা, জানতে চান হাইকোর্ট

৩৩ মামলার ভুল আসামি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বাসিন্দা জাহালমের বিনাদোষে তিন বছর জেলে থাকার পেছনে কারা জড়িত- তা দেখবেন বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জাহালমের জেল খাটার পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করতে দুদকের করা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (১৭ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২ মে পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আজ জাহালমও উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং জাহালমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

শুনানি শুরু হলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সময় চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় কোর্ট দেখেন, এ মামলার ফাইল আসেনি। তখন আদালত বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল- আজকে ফাইল আসবে এবং আমরা শুনানি করতে পারব। কিন্তু ফাইল তো আসেনি।’

এ সময় আদালত দুদকের আইনজীবীকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সব নথি দাখিল করতে নির্দেশ দেন। জাহালমের জেল খাটার পেছনে কারা জড়িত সেই তদন্ত রিপোর্টও দাখিলের নির্দেশ দিয়ে ২ মে দিন ঠিক করে দেন। এর আগে গত ১০ এপ্রিল জাহালমের বিষয়ে জানতে তাকে হাজির করতে বলেন আদালত। আদালতের সেই নির্দেশনা মতে, আজ (বুধবার) জাহালম কোর্টে হাজির হন।

জাতীয় একটি দৈনিকে “৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে: ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না…” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৪ সালে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। এর পর সালেককে তলব করে দুদক চিঠি দিলে সেই চিঠি পৌঁছায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়।

নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিক জাহালম তখন দুদকে গিয়ে বলেন, তিনি আবু সালেক নন, সোনালী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও তার নয়।

কিন্তু দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেদিন জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করে দুদক।

পরে আদালতেও জাহালম দুদকের পরিচয় বিভ্রাটের বিষয়টি তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু কেউ তার কথা কানে তোলেননি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কারও কাছে সমাধান না পেয়ে জাহালমের বড় ভাই শাহানূর মিয়া গত বছর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যান। তার আবেদনে কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে জাহালমের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। পরে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে, আবু সালেক আর জাহালম একই ব্যক্তি নন।

কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মামলার অন্যতম আসামি নজরুল ইসলাম ওরফে সাগরের সঙ্গে কাশিমপুর কারাগারে কমিশনের কথা হয়। তিনি জানান, আবু সালেক মিরপুরের শ্যামল বাংলা আবাসন প্রকল্পের মালিক।

দুদকের মহাপরিচালক (আইন) মঈদুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে জাতীয় ওই দৈনিকটি লিখে, জাহালম যে নির্দোষ, তা দুদকের অধিকতর তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আদালতকে তা জানানো হয়েছে।

(যুগান্তর, ঘাটাইলডটকম)/-