‘বাড়ির পাশে আরশিনগর, আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারত (তৃতীয় পর্ব)’

জাকারিয়া চৌধুরীর ‘আরশি নগর’ সিরিজের এটা তৃতীয় পর্বের লেখা। তৃতীয়পর্ব বুঝার সুবিধার্থে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব এখানে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন।

মাহিন্দা রাজাপাকসে যখন চন্দ্রিকার স্থলাভিষিক্ত হলেন তখনও দক্ষিন এশিয়ার কেউ এটা ঘুনাক্ষরে কল্পনাও করতে পারেনি যে বিশ্বের এক নাম্বার ভয়ংকর বিদ্রোহী দলটির ঠিক কি পরিনতি হতে পারে।

Colonel Karuna Amman- In 26 July 2004, Muralitharan broke away from the Tamil Tigers after he alleged they were ignoring the interests of the eastern Tamil people, and claimed to have renounced violence at this point.[5] This move by Karuna, to break away from the LTTE and renounce terrorism has been claimed to be one of the major turning points that brought about the end of the two and a half decade conflict. He turned away and helped to capture LTTE bases. Deputy Minister Seyed Ali Zahir Moulana has been hailed as being instrumental in Karuna renouncing terrorism, who in turn joined the democratic mainstream. (sourcewikipedia)

এলটিটি’র সকল চাবিকাঠি ছিল কর্নেল করুনার হাতে। চায়নার ছকে শ্রীলংকার সেনাবাহিনী যখন জাফনা পুনরুদ্ধারে নামে তখন সম্ভবত তাদের জাল গলে কোন পিপড়ার পক্ষেও বের হওয়া সম্ভব ছিল না। রাজাপাকসে যখন অভিসিক্ত হচ্ছেন ফুলে ফুলে তখন দক্ষিন এশিয়ার দুঃখ (আমার চোখে) বাংলাদেশের আকাশ দিনে দিনে ভারী হয়ে উঠছে।  দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরে ক্ষমতায় আসা বিএনপির নেতারা ডুবে আছে আনন্দে। মিডিয়ায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত শ’খানিক রিপোর্ট আসে যা ঘুরে ফিরে বিএনপির বিরুদ্ধে-ই যায়।

পঞ্চগড়ে আলুক্ষেতে কিশোরীকে ধর্ষন করে গোপনাঙ্গে আলু ঢুকিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা- দোষ হয়ে যাচ্ছে বিএনপির। একেবারে টপ লেভেল থেকে রুট লেভেল পর্যন্ত একটা-ই কথা- ‘মিডিয়া সব সময় আমাদের বিপক্ষে-ই ছিল। তারা কি পারছে আমাদের ঠেকাতে ?’

মুক্তাঙ্গনে একদিন বিএনপির সমাবেশে আমান উল্লাহ আমান খুব দম্ভ করে বললেন, জনগন আমাদেরকে চল্লিশ বছরের জন্য মেন্ডেট দিয়ে দিয়েছে। আমি অবাক হয়ে ভাবছিলাম, একজন সাবেক ডাকসু ভিপি, এমপি, মন্ত্রী এতোটা দম্ভ দেখায় কোন সাহসে? একজন এমপি এভাবে এমন অসাংবিধানিক কথা বলেন কোন আইনে?

হাওয়া ভবনে গেলাম বেশ ক’বার। কোনোবারই ঢুকতে পারলাম না। চারিদিকে মামুনের বদনাম। মামুন প্রসঙ্গ আসা মানেই তারেক হচ্ছে সব নষ্টের হোতা। আর এই কথাগুলো যারা রটাচ্ছে তারা-ই সেইসব লোক যারা তারেক রহমানকে এক সেকেন্ডের জন্যেও কোন নেতা কর্মীর সামনে আসতে দেয় না।  তারেক গাড়ি চালাইলে তারা সাথে সাথে ঝুলে ঝুলে দৌড়ায়, তারেক সাইকেল চালাইলে এরা দৌড়ায়, তারেক সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছে মানুষের সাথে একীভুত হতে। এদের ভয় আর বেস্টনির কারনে দূর থেকে জনতার প্রতি হাত নাড়া ছাড়া তারেকের কিছু করার থাকে না।

আমার মনে পড়ল জোসেফ স্ট্যালিন কান্ডের কথা। সে হিটলারকে এতোটাই নজরে রাখতো যে, হিটলার প্রতিবার পায়খানা করার পর সেই গুয়ের স্যাম্পলও কালেকশন করতো কেজিবি বা তাদের লোকেরা। সেই গু নিয়া ল্যাবে পরিক্ষা করতো। সেখান থেকে বের করার চেষ্টা করা হতো হিটলার কি কি খেতে বেশি ভালোবাসেন, কোন ধরনের মাদক সেবন করেন আরও নানান হাবিজাবি।

আমার মনে হলো, সমস্যা গিয়াস উদ্দিন আল মামুন কিংবা তারেক রহমান নয়। সমস্যা এবং গলার কাঁটা হয়ে গেছে হাওয়া ভবনের আশপাশের বিল্ডিং গুলো। বগুড়ার একটা নেড়ি কুকুরও চেষ্টা করে হাওয়া ভবনের কত কাছে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়া যায়। এরা সারাদিন দালালী ব্যাবসা করে, সারারাত তারেক রহমান, মামুন এমনকি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও কুৎসা রটায়।

আমার স্পষ্ট মনে আছে, দাউদকান্দি, ফেনী, বগুড়া, ফরিদপুর সহ বৃহত্তর বরিশালের সকল অঞ্চলের নেতাদের তান্ডবে দল ও দলের লোকেরা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। গিয়াস মামুন সারাদেশে খাম্বা বসায় আন্তর্জাতিক টেন্ডার কিনে। সে খাম্বা বসাইয়া বিল নেয়। আমিতো দোষের কিছু দেখলাম না এতে। তারপরেও গিয়াস উদ্দিন মামুন ছাড়া পত্রিকাওয়ালারা ঘুমায় না কেন?- এই প্রশ্নের উত্তর পেলাম গত এক যুগে।

সাংবাদিকরা একটা দেশকে কোন ধংসের প্রান্তে নিয়ে যেতে পারে তাঁর জ্বলজ্যান্ত উদাহরন আজকের বাংলাদেশ।

খালেদা জিয়া সাইফুর রহমান যখন পুরো দেশটাকে পিঠে, ঘাড়ে আর মাথায় নিয়ে উজানের দিকে বয়ে চলছেন তখন প্রথম আত্মঘাতি আঘাত আসলো বদ্রুদ্দজা বদরুদ্দোজার হাত ধরে। কথায় কথায় কর্নেল অলি, হুদারা খালি মেজাজ দেখায়। তারাও তখন ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছিল সার্বিক দেশের স্বার্থে।

খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক সম্পুর্ক উন্নয়নে নিজেই বেশ তৎপর ছিলেন। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা বাংলাদেশ সফরে এলে তাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আমন্ত্রণ জানিয়ে বিপুল সংবর্ধনা দেয়া হয়। তিনি এতোটাই খুশি হয়েছিলেন যে, ফিরতি সফরে খালেদা জিয়া যাবেন বলে তিনি নিজে বাংলাদেশে এসে তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ সফরকে সে সময়ের বিরোধী নেত্রী- বড় এসে নতুন বউকে নিয়ে গেলো বা এ জাতীয় কমেন্ট করেছিলেন। এসব কান্ড কখনো কোন দেশের জন্য শুভ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

তারপরে আসে খালেদা জিয়ার চিন সফরের কথা। টানা পাচদিন এক দেশে-ই তিনি সফর করবেন আর ভারত বসে বসে কলা চুষবে তা ভাবার কারন নেই। তাছাড়া সফরের সময়সুচী নিয়ে আলোচনা শুরু হয় কখনো কখনো বছরেরও বেশি সময়। সে সফরের মধ্যে দিয়ে বিএনপি এবং চায়নার মধ্যে সম্পর্কের এক অভাবনীয় উন্নতি লাভ করার আশা করেছিলেন অনেকেই।

কিন্তু আগের পর্বগুলিতেই পাঠকদের বলেছি যে, ভারত সব সময় ফাঁকা মাঠ পছন্দ করে। এই সফরকে ব্যর্থ করতে ভারত তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে।

ভেলুপিল্লাই প্রভাকরনকে হত্যার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মাহিন্দা রাজাপাকসে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসীন হন বিপুল জনপ্রিয়তায়। ভারত জানে শ্রীলংকায় তাদের ভাত উঠে গেছে। তারা যখন নিজস্ব লোককে ক্ষমতায় বসাতে পারে না তখন দ্বিতীয় বিকল্প খুঁজে।

বাংলাদেশে জিয়া হত্যার পর তারা তাদের দেরাদুনের সাবেক ছাত্র এরশাদকেই বেছে নেয়। তাও যদি না পায় তবে তারা ক্ষমতাসীন দল থেকে-ই কাউকে নিজেদের গুডবুকে নিয়ে নেয়। নেপালে ভট্ররাই এবং নেপালি কংগ্রেস যেমন ছিল তাদের গুডবুকের সন্তান তেমনি শ্রীলংকার রনিল বিক্রমাসিংহে তাদের পছন্দের হলেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে তারা রাজা পাকসের সরকারের জন্য একজন বিশেষ লোককে দায়িত্ব দিয়ে তাদের শীলংকান দুতাবাসে পাঠায় দুই বছরের সময় দিয়ে। তাঁর কাজ হচ্ছে রাজাপাকসের সরকার থেকে একজন উপযুক্ত লোক বেছে নেয়া যিনি রাজাপাকসেকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

মনে কি পরে, প্রথম পর্বে-ই উল্লেখ করেছিলাম ভারত তাদের সাউথ ব্লকের একজন কুটনীতিককে আলাদা চেয়ার টেবিলে বসিয়ে দিয়েছিল হোম ওয়ার্ক করতে ?

(পরের পর্বে থাকছে জেএমবি’র সিরিজ বোমা হামলা ও ঢাকায় তাইওয়ানের অফিস খোলাকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র জন্য চীনের দুয়ার চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে দুই কথা)

(জাকারিয়া চৌধুরী, ঘাটাইলডটকম)/-

179total visits,1visits today