বাপ-ভাই ও নিজের নামে তোলা মদ বিক্রি হয় টাঙ্গাইলের জুতোর দোকানে

বাপ-ভাই ও নিজের নামের মদ খাওয়ার লাইসেন্স দিয়ে তোলা মদ বেশি দামে বিক্রি করে আসছে টাঙ্গাইল শহরের ভাই ভাই সুস্টোরে মালিক মিল্টন।

দশ বছর এভাবে প্রকাশ্যে তিনি তার জুতোর দোকানে  বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ বিক্রি করে আসছেন।

মিল্টন নিজে তার জুতোর দোকানে মদ বেচার কথা স্বীকার করেছেন।

প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবদি বিভিন্ন সময় কিশোর ও বৃদ্ধসহ নানা বয়সের মাদকসেবীরা তার দোকান থেকে বিনা লাইসেন্সে সহজেই এসব মদ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে জুতোর দোকানেই চলছে মিল্টনের রমরমা ব্যবসা।

জেলা শহরে প্রকাশ্যে বিনা লাইসেন্সে জুতোর দোকানে মদ বিক্রি করে আসলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে ‘পুলিশ ম্যানেজ’ করেই মিল্টন এ ব্যবসা চালাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জুতোর দোকান ভাই ভাই সুস্টোরে মদ বিক্রি চলে।

টাঙ্গাইলের তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণরাও এখান থেকে বিনা লাইসেন্সে সহজে মদ কিনছেন। অবশ্য এ জন্য বাড়তি অর্থ গুনতে হয় ক্রেতাদের।

তবে ওই দোকানে মদ বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন আশপাশের দোকানদাররা।

দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের দক্ষিণ, পশ্চিম ও পূর্বের দেয়ালে জুতার সাথে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরণের মদ।

তার দোকানে ভদকা, হুইসকি ও বাংলা মদসহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের মদ পাওয়া যায়। প্রতিটি ভদকার বোতল ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা ও হুইসকির বোতল ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা বলেন, ‘ভাই ভাই সুস্টোরে সব সময় মদ পাওয়া যায়। টাকা বেশি দিলে মদ নির্ধারিত স্থানেও পৌঁছে দেয় মিল্টন ও তার সহযোগিরা। তবে বিভিন্ন উৎসবে মদের দাম আরো বেশি নেওয়া হয়।’

এ ব্যাপারে ভাই ভাই সুস্টোরের মালিক মিল্টন এই প্রতিবেদককে মদ বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার দোকানে ভদকা, হুইসকি, বাংলা মদসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ পাওয়া যায়। দাম দুই হাজার থেকে দুই হাজার পাঁচশত টাকা।’

অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট স্থানে মদ পৌঁছে দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন মিল্টন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সায়েদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

(আব্দুল্লাহ আল নোমান, পরিবর্তন, ঘাটাইল ডট কম)/-

125total visits,1visits today