বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাজ ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে: তারানা হালিম

ঢাকা: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে ৯৫ শতাংশ, জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেছেন, ‘অক্টোবরে এটি পুরোপুরি প্রস্তুত হবে। যান্ত্রিক সব কাজ সম্পন্ন করে এখন শুধু সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ বাকি। এসব কাজ শেষ করেই আগামী ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর প্রত্যাশা করছি।’

শনিবার গাজীপুরের জয়দেবপুরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশনের শেষ সময়ের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইকুইপমেন্ট ইনস্টলের জন্য জেনারেটরের কাজ মোটামুটি শেষ। এছাড়াও অ্যান্টেনা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে, সম্ভবত পজিশনটা সরাতে হতে পারে সেটাও দ্রুত হয়ে যাবে। সেপ্টেম্বর থেকে ইকুইপমেন্ট টেস্টিং শুরু করে দিতে পারবো। টার্গেট নভেম্বর। তবে তার আগেই অক্টোবরের মধ্যে গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ শেষ এবং স্টেশনটি প্রস্তুত হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেয়েছি আগে ইকুইপমেন্ট স্থাপন করতে। কারণ এগুলোই স্টেশনের মূল যন্ত্রপাতি। তাই এটা যত দ্রুত সময়ের মধ্যে ইনস্টল করা যাবে ততই নিশ্চিত থাকা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন যে কাজগুলো বাকি আছে সেগুলো আমরাই করতে পারবো। তাই এটা জোর দিয়ে বলতে চাই যে, আমরা সঠিক সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারবো।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট অরবিটে পাঠানোর পর থ্যালাস সেটি পর্যবেক্ষণ করবে। তবে সেই সঙ্গে এখান থেকে সেটি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তারানা হালিম বলেন, ‘থ্যালাস প্রথম ৩ বছর স্যাটেলাইটটি পর্যবেক্ষণের কাজ করবে। আমাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করবে এবং ধীরে ধীরে ৩ বছরে আমাদের সক্ষমতা তৈরি করে তারা এর দেখাশোনার পুরো দায়িত্বভার আমাদের উপরই ছেড়ে দিবে। তখন গাজীপুরের এই স্টেশন ও বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে আমাদের লোকবলের মাধ্যমেই এটি পরিচালনা করা হবে।’

এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সময় ডিসেম্বরেই ঠিক করা আছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘থ্যালাস স্যাটেলাইটটির নির্মাণ কাজ সঠিক সময়ে শেষ করবে। আর ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা আছে। আমরা চাইবো ১৬ ডিসেম্বর এটি মহাকাশে পাঠাতে। তবে আবহাওয়া ও দেশটির সেনাবাহিনীর নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য কিছুটা সময়ের হেরফের হতে পারে। অবশ্য, নভেম্বরের মধ্যেই স্যাটেলাইটটি ফ্লোরিডায় পাঠিয়ে দেবে থ্যালাস। আর সেখান থেকেই তা উৎক্ষেপণ করা হবে।’

এছাড়াও এসবের পাশাপাশি স্যাটেলাইটটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম কী হবে সেগুলো নিয়েও রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম আগামী এপ্রিলে শুরু করার কথা জানান তিনি।
১৫ বছর জীবনকালের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। গ্রাউন্ড স্টেশন পরির্দশনের সময় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইল.কম/-

174total visits,2visits today

Leave a Reply