পাঁচশ লোককে হত্যার পরিকল্পনা ছিল, শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল : কাদের

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দিন আরেকটি হত্যাযজ্ঞের চেষ্টা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, সেই দিন ভোরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী স্মরণে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

 

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ভোরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কঠোর নিরাপত্তায় যখন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা চলছিল তখন এই এলাকা থেকে ৩০০ মিটার দূরে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে চলছিল পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অনুষ্ঠান। আত্মসমর্পণের আহ্বান অগ্রাহ্য করে সাইফুল ইসলাম নামে এক তরুণ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিহত হন। বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে কক্ষের দেয়াল এবং বারান্দার গ্রিল ও দেয়াল খুলে নিচে পড়ে যায়। পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক জানিয়েছেন, তাদের কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্যমতে নিহত সাইফুল শোক দিবসের অনুষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তাদের জালে ধরা পড়ে যান তিনি।

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পাঁচশ লোককে হত্যার পরিকল্পনা ছিল। শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল। আল্লাহ রক্ষা করেছেন।’

এই হামলা চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়াসহ তিন কারণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন খারাপ বলে মন্তব্য করেন কাদের। তিনি বলেন, প্রথম কারণ, ষোড়শ সংশোধনী রায়ে নতুন একটি ইস্যু পেয়ে এখান থেকে ফায়দা পাওয়া যাবে- মওদুদ আহমদ এমন পরামর্শ দেওয়ার পর বিএনপিতে জগাই-মাথাই শুরু হয়ে যায়। কিন্তু আজকে সেই রঙিন খোয়াবের জমিন ক্রমেই মরুময় হয়ে যাচ্ছে।

‘দ্বিতীয় কারণ, গত ১৫ আগস্ট ভোরে আরেকটা ১৫ আগস্ট, আরেকটা একুশে আগস্টের মতো জঙ্গিবাদী হত্যাযজ্ঞ ঘটানোর পরিকল্পনা পণ্ড হওয়ার পর বিএনপির মন খারাপ।’

‘তৃতীয় কারণ, জন্মদিবসের কেক কাটতে না পারা। বন্যার্তদের নাম নিয়ে মায়াকান্না দেখাচ্ছেন। আসলে জনগণের অবরুদ্ধতার মুখে কেক কাটতে না পেরে মন খারাপ।’

‘মন খারাপ করে বিএনপি এখন রাজনীতির বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো হয়ে গেছে’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘তারা যে কোন সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।’‘সবাই সতর্ক থাকবেন, সজাগ থাকবেন’। ‘আঘাতে আঘাতে আমরা স্তিমিত নই। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, আমরা এগিয়ে যাব।’

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করে কী লাভ হয়েছে? জিয়াউর রহমান যদি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন না করতেন তাহলে আরেকটি খুনি চক্র জিয়াকে হত্যার দুঃসাহস দেখাত না। যে বুলেট শেখ হাসিনাকে, শেখ রেহানাকে এতিম করেছে, সেই বুলেট খালেদা জিয়াকে বিধবা করেছে। হত্যার রাজনীতি থেকে আপনারাও রেহাই পাননি।’

 

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে জানানো এবং রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার খোজ-খবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সরকার ও দলীয় অবস্থান রাষ্ট্রপতিকে জানানো সরকার প্রধান হিসেবে ও দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব।

 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কে কাকে চাপ দিয়ে কি করছে-এই গুজব কোথা থেকে আসছে? ওই পদের কাউকে চাপ দিয়ে কিছু করানো যাবে? এই কথা বলে তো তাদেরকে ছোট করা হচ্ছে। এই যে লাফালাফি করছেন, রায়ে বেনানা রিপাবলিক অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ সেটা পড়েননি? আমার মনে হয় পড়েছেন। পড়েই নীরবতা পালন করছেন। এই নীরবতার মানে হচ্ছে এই অংশ মেনে নিয়েছেন। এ জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’

বিএনপির বক্তব্য খণ্ডন করে কাদের বলেন, ‘আমরা লাফালাফি করছি না। আমাদের মধ্যে কোন অস্থিরতা নেই। কারণ জনগণ আমাদের ক্ষমতার উৎস। জনগণ ক্ষমতায় রাখতে পারে, জনগণ ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে পারে। যাদের ক্ষমতার উৎস জনগণ নয় তারা একটা ইস্যু পেলেই লাফালাফি করে। আট বছরে আট মিনিট রাজপথে থাকতে পারেন না-লজ্জা করে না?’।

সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন নন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

 

(ঢাকাটাইমস/ ঘাটাইল.কম)/-

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।