নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলাকারী কে এই খ্রিষ্টান সন্ত্রাসী ব্রেনটন ট্যারেন্ট?

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে অস্ট্রেলিয়ার এক শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী বন্দুকধারীর গুলিতে তিন বাংলাদেশী সহ ৪৯ জন নিহত ও বহু আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রিয় শটগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী এ যুবক।-খবর মেইল অনলাইনের।

খুদে ব্লগ টুইটারে হামলাকারী নিজের পরিচয় দিয়েছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন শহরের অধিবাসী সে। হামলার আগে সে টুইটারে ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ শিরোনামে ৮৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ একটি মেনোফেস্টো প্রকাশ করে। এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার সময় মসজিদের ভেতর থেকে সামাজিকমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন এই শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী।

মেনোফেস্টো সে উল্লেখ করে, ব্যক্তিগতভাবে সে মুসলিম বিদ্বেষী এবং মুসলমানদের প্রচণ্ড রকম অপছন্দ করে। এবং অন্য ধর্ম থেকে মুসলমানে পরিণত হওয়াকে সে রক্তের সাথে বেইমানী করা বলে উল্লেখ করে।

মেনোফেস্টোতে আরও আছে, ২০১১ সালে নরওয়ের অসলোতে ৭৭ জনকে হত্যাকারী আন্ডারস ব্রেভিকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।

ব্রেন্টন টেরেন্ট আরও জানিয়েছে, ২০১৭ সালে স্টকহোমে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা দ্বারাও সে এই হামলা চালানোতে প্রভাবিত হয়েছে।

হামলাকারী নিজেকে ‘শেতাঙ্গ’ বলে পরিচয় দিয়ে টেরেন্ট আরও বলে, সে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাপোর্ট করে, কারণ ট্রাম্প শেতাঙ্গদের প্রতিনিধিত্ব করে।

নিজের পারিবারিক অবস্থা ও শৈশবের বেদনা উল্লেখ করে সে জানায়, আমি নিন্মবিত্ত পরিবারের জন্মেছি, তার বাবা-মা স্কটিশ, আইরিশ এবং ইংলিশ ছিল, আমার কোন নিয়মিত শৈশব ছিল না।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারী একজন ডানপন্থী সন্ত্রাসী। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একজন সহিংস ডানপন্থীর এ হামলার ঘটনায় আমরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদের ওই হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী চরমপন্থী বলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার জুমার নামাজ চলার সময় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৭৩ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে যখন গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠবাদী যুবকটি তখন লোক গান ও সামরিক সঙ্গীত শুনছিলেন। এরপর একটি সরু গলিতে গাড়িটি পার্ক করে রেখে অস্ত্র নিয়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে যান।

তার গাড়ি থেকে অন্তত ছয়টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হেঁটে হেঁটে তিনি মসজিদের সামনের দরজায় গিয়ে অবস্থান নিয়ে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন।

এরপর তিনি মসজিদে ঢুকে পড়েন এবং সামনে যাকে পেয়েছেন, তাকেই গুলি করে হত্যা করেছেন।

প্রথমে গুলি খাওয়ার পর একব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে মসজিদ থেকে বের হতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ফের ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

মসজিদটিতে তিনশতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। শুক্রবার উপলক্ষে জুমার নামাজ পড়তে এদিন দুই শতাধিক উপস্থিত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

বন্দুকহামলাকারী মুসল্লিদের ভিড় লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। কখনো কখনো টার্গেট ধরে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের পূর্বাভাস দিয়ে ৭৩ পাতার ইশতেহারে তিনি লিখেছেন, তিনি মুসলমান এবং ধর্মত্যাগীদের ঘৃণা করেন। ধর্মত্যাগকারীদের তিনি রক্তের সঙ্গে প্রতারণাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমি ২০১১ সালে নরওয়ের ওসলোতে ৭৭ জনকে হত্যাকারী অ্যান্ডারর্স ব্রেইভিকসহ অন্যান্য বন্দুকহামলাকারীদের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি।

‘ডায়লান রুফসহ আরও অনেকের লেখা আমি পড়েছি। তবে সত্যিকার অর্থে তিনি নাইট জাস্টিসিয়ার ব্রেইভিকের কাছ থেকেই হামলার উৎসাহ পেয়েছেন।’

গণহত্যার বিস্তারিত পরিকল্পনায় তিনি বলেন, অধিকাংশই দেখেন যে আমাদের ভূখণ্ডকে কখনোই অনুপ্রবেশকারীদের ভূখণ্ড হবে না। আমাদের মাতৃভূমি আমাদের এবং যখনক্ষণ পর্যন্ত শেতাঙ্গরা জীবিত থাকবে, ততদিন তারা আমাদের ভূখণ্ড বিজয় করতে পারবে না। তারা কখনোই আমাদের লোকদের জায়গা দখল করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, সংজ্ঞায়িত করলে এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। কিন্তু দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এটি একটি পক্ষপাতমূলক হামলা বলেই আমি মনে করি।

এ হামলার ঘটনায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র সমর্থক ক্যানডিস ওউনসের কাছ থেকে অনুপ্রারিত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ইশতেহারে যুবক বলেন, সার্বিকভাবে যিনি আমাকে বেশি প্রভাবিত করেছেন, তিনি হচ্ছেন ক্যানডিস ওউনস। যখনই তিনি কথা বলেন, আমি বিমোহিত হয়ে যাই।

(যুগান্তর, ঘাটাইলডটকম)/-

138total visits,1visits today