দেশের ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৫’ প্রদান করেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান একেএম রহমতউল্লাহ। তথ্য সচিব মর্তুজা আহমদ স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ৬৪টি জেলা ও ৪ উপজেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পে প্রতিটি কমপ্লেক্স মাল্টিপারপাস সিনেমা হলে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা চলচ্চিত্র বিপণনে সহায়তা করবে। এছাড়া, চলচ্চিত্রে সেন্সর ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অনলাইনে চলচ্চিত্র মুক্তির ব্যবস্থা চালু হলে চলচ্চিত্র দর্শক ও গবেষকদের আকাক্সক্ষা পূরণ হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে চলমান অন্যান্য কাজসমূহ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আমি তথ্য মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি- চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা-অভিনেত্রী, কলাকুশলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে নিজেদের মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

তিনি বলেন, আপনাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০২১ সালের আগেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা চাই যারা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তারা আরো উন্নতমানের এমন সিনেমা করবেন, যা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি সবকিছু যেন ধারণ করতে পারে এবং পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও আমাদের এই শিল্পটা যাতে আরো মর্যাদা অর্জন করতে পারে। বিশেষভাবে এসব দিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

 

অনুষ্ঠানে ২৫টি ক্যাটাগরিতে ৩১ জন শিল্পী, কলা-কুশলীকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৫ প্রদান করা হয়।

>> আজীবন সম্মাননা- শাবানা ও ফেরদৌসী রহমান

>> শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র -বাপজানের বায়োস্কোপ (প্রযোজক- মো.রিয়াজুল মওলা রিজু) এবং অনিল বাগচীর একদিন (প্রযোজক-আবুল খায়ের)

>> শ্রেষ্ঠ পরিচালক- মো.রিয়াজুল মওলা রিজু (চলচ্চিত্র- বাপজানের বায়োস্কোপ) ও মোরশেদুল ইসলাম (চলচ্চিত্র- অনিল বাগচীর একদিন)

>> শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র- চলচ্চিত্র ও প্রকাশণা অধিদপ্তর (একাত্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমি)

>> শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- শাকিব খান (চলচ্চিত্র-আরো ভালোবাসবো তোমায়) ও মাহফুজ আহমেদ (চলচ্চিত্র-জিরো ডিগ্রি)

>> শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী- জয়া আহসান (চলচ্চিত্র-জিরো ডিগ্রি)

>> পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- গাজী রাকায়েত (চলচ্চিত্র- অনিল বাগচীর একদিন)

>> পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী- তমা মির্জা (চলচ্চিত্র-নদীজন)

>> খল চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- ইরেশ যাকের (চলচ্চিত্র- ছুঁয়ে দিল মন)

>> শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী- যারা যারিব (চলচ্চিত্র- প্রার্থনা) ও প্রমিয়া রহমান (চলচ্চিত্র- প্রার্থনা)

>> শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক- সানী জুবায়ের (চলচ্চিত্র-অনিল বাগচীর একদিন)

>> শ্রেষ্ঠ গায়ক- সুবীর নন্দী (তোমারে ছাড়িতে বন্ধু, চলচ্চিত্র- মহুয়া সুন্দরী) ও এস আই টুটুল (উথাল পাতাল জোয়ার , চলচ্চিত্র- বাপজানের বায়োস্কোপ)

>> শ্রেষ্ঠ গায়িকা- প্রিয়াংকা গোপ (আমার সুখ সে তো, চলচ্চিত্র-অনিল বাগচীর একদিন);

>> শ্রেষ্ঠ গীতিকার- আমিরুল ইসলাম (উথাল পাতাল জোয়ার, চলচ্চিত্র- বাপজানের বায়োস্কোপ)

>> শ্রেষ্ঠ সুরকার- এস আই টুটুল (উথাল পাতাল জোয়ার, চলচ্চিত্র-বাপজানের বায়োস্কোপ)।

>> শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার- মাসুম রেজা (বাপজানের বায়োস্কোপ)

>> শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার- মাসুম রেজা (বাপজানের বায়োস্কোপ) ও রিয়াজুল মওলা রিজু (বাপজানের বায়োস্কোপ)

>> শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার- হুমায়ূন আহমেদ (অনিল বাগচীর একদিন)।

>> শ্রেষ্ঠ সম্পাদক- মেহেদী রনি (বাপজানের বায়োস্কোপ)

>> শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক-সামুরাই মারুফ (জিরো ডিগ্রী)

>> শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক- মাহফুজুর রহমান খান (পদ্ম পাতার জল)

>> শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক- রতন কুমার পাল (জিরো ডিগ্রী)

>> শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা- মুসকান সুমাইকা (পদ্ম পাতার জল)

>> শ্রেষ্ঠ মেক আপম্যান- শফিক (জালালের গল্প)।

 

(বাসস/ঘাটাইল.কম)/-

81total visits,2visits today