দেশের অন্যতম বৃহত্তম আসবাব-পত্রের হাট ঘাটাইলের ধলাপাড়া

ঘর সাজাতে কে না পছন্দ করে। আর ঘর সাজানোর সব বাহারী ডিজাইনের আসবাবপত্র পাওয়া যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া হাটে।

ক্রেতা বিক্রেতা ও হাট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়, দেশের বৃহত্তম আসবাবপত্রের (ফার্নিচার) হাট ধলাপাড়া। সপ্তাহে বৃহস্পতি ও সোমবার বসে হাট। প্রতি হাট বার প্রায় কোটি টাকার তৈরীকৃত আসবাবপত্র কেনা-বেচা হয় এখানে। উত্তর অঞ্চলের জেলা ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসেন ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কেনার জন্য। রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে এ হাটের আসবাব-পত্রের বেশ কদর।

উপজেলা সদর থেকে ১৪ কি.মি. পূর্বে এবং ভালুকা-উথরা সড়কের সাগরদিঘী থেকে ১২ কি.মি পশ্চিমে বংশাই নদীরপাড়ে অবস্থিত ধলাপাড়া হাট। এ হাট থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার ও সোমবার ৫শ থেকে ৮শ বিভিন্ন প্রকারের খাঁট, সোফাসেট, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল, সুকেজ, চেয়ার-টেবিল এবং দরজা-জানালা বেঁচা কেনা হয়।

কাঠের মধ্যে খোদাই করা বাহারী নকশায় ফুলবক্স, সেমিবক্স, বেগি খাট, বোম্বাই ও রাশিয়ান খাট পাওয়া যায় এ হাটে। ২ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা মুল্যর খাট পাওয়া যায় এখানে। এছাড়াও গোল ড্রেসিং টেবিল, ছয়কোনা ড্রেসিং টেবিল, তিনচাল ড্রেসিং টেবিল, দুইচাল ড্রেসিং টেবিল, কানিশ ড্রেসিং টেবিল এবং লতা সোফা,হাতি সুড় সোফা, বল সোফা ও বক্স সোফাসেটও বিক্রি হয়। উচ্চবৃত্ত থেকে নিম্নবৃত্ত সব শ্রেণির লোকজন এ হাটের ক্রেতা। শুধু ঘাটাইল উপজেলার নয় জেলার অন্যান্য ক্রেতা-বিক্রেতারা অতি সহজেই ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র কেনা-বেঁচা করে থাকেন।

উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন স্বপরিবারে এসেছেন নতুন ঘরের জন্য আসবাব-পত্র কেনার জন্য তিনি জানান, কাঠের মান ও আসবাব-পত্রের দামের কথা বিবেচনা করে এ হাটে আসা। তার স্ত্রী ইলা জানান, অনেক সুনাম রয়েছে এ হাটের তাই ছেলে ও মেয়েকে সাথে নিয়ে এসেছি আসবাব-পত্র কিনতে।

কালিহাতী উপজেলার স্থানীয় ব্র্যাক ব্যাংক এর ব্যস্থাপক মো.আবির আজাদ এসেছেন ঘরের জন্য ফর্নিচার কেনার জন্য। তিনি জানানসাধ্যের মধ্যে ভালো ফার্নিচার পাওয়া যায় বলেই এ হাটে আসা।

হাটের অন্যতম বড় ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো.আবদুল আজিজ জানান, ভৌগলিক অবস্থা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল হওয়ায়  আসবাবপত্রের জন্য দেশের  অন্যতম বৃহৎ হাট ধলাপাড়া।

হাটের ইজাদার কাজী মোখলেছুর রহমান জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য ১৬ লাখ ১ হাজার টাকা দিয়ে হাট ইজারা নিয়েছি। যা গত কয়েক বছরের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি জানান, হাটের ইজারা কমলে ক্রেতারাও ফার্নিচার প্রতি খাজনাও কম পেত। প্রতিটি খাটের জন্য ৫০ টাকা থেকে ২শ টাকা খাজনা দিতে হয় ক্রেতাকে।

বাসাবাইদ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক অনন্ত জানান, হাট বারের আগের দিন থেকেই আসবাব-পত্র আসাতে শুরু করে এবং তা হাট বারের রাত অবধি চলে বেঁচা-কেনা।

ধলাপাড়া কলেজের প্রভাষক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, ধলাপাড়া ফার্নিচার হাটের সুনাম দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে।

 

(মো. মাসুম মিয়া/ ঘাটাইল.কম)/-

499total visits,3visits today