দেলদুয়ারে সালিশী বৈঠকে স্ত্রীর তালাকের টাকা মাতাব্বরদের পকেটে!

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে যৌতুকের দাবি না মেটানোয় স্ত্রীকে অপবাদ দিয়ে তালাক দিয়েছে স্বামী। এ বিষয়ে তিন মাতাব্বর কুটকৌশলে সালিশ বৈঠক বসিয়ে খোরপোষের নামে আদায়কৃত টাকা নিজেদের মাঝে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। উপজেলার ফাজিলহাটি ইউনিয়নের লালহারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, এলাসিন ইউনিয়নের আবাদপুর গ্রামের মো. নইমুদ্দিনের মেয়ে রোকসানা বেগমে (১৮) বিয়ে হয় ফাজিলহাটি ইউনিয়নের লালহারা গ্রামের সামেজ মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। বিয়ের সময় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেয় জাহাঙ্গীর। রোকসানার অভিযোগ বিয়ের পর স্বামী আরও যৌতুকের জন্য চাপ দেয়। দাবিকৃত যৌতুক না দেয়ায় বিভিন্ন সময় মারধর করে বাবার বাড়ি রেখে আসত।

সম্প্রতি স্বামী জাহাঙ্গীর একই গ্রামের অটোচালক বন্ধু আরিফকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে কৌশলে স্ত্রী রোকসানার সঙ্গে একঘরে তালাবদ্ধ করে কুৎসা রটায়।

স্থানীয় মাতবর আব্দুস সালাম ভূইয়ার নেতৃত্বে হযরত আলী ও রওশন আলী শুক্রবার সকাল ৯ টায় ওই গ্রামের তমিজ মাস্টারের বাড়িতে মিমাংসার নামে সালিশ বৈঠক বসায়। বৈঠকে কাজী ডেকে জোরপূর্বক খোলা তালাকনামা ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করান ওই তিন মাতবর। সেইসঙ্গে স্বামী জাহাঙ্গীরকে ৪০ হাজার এবং তার বন্ধু আরিফকে অভিযুক্ত করে ৮০ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়। আদায়কৃত ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মধ্যে ৬২ হাজার টাকা খোরপোষ বাবদ রোকসানাকে দিয়ে বাকি টাকা ভাগবাটোয়ারা করেন তিন মাতবর।

সরেজমিন ওই গ্রামে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, প্রভাবশালী তিন মাতবরের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন যাবৎ সালিশ বানিজ্যের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের খপ্পরে পড়ে এলাকার অনেক নিরীহ পরিবার হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সহজে কেউ মুখ খলতে চাননা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ভুইয়া বলেন, ১২ এপ্রিল সকালে সালিশ বৈঠকে কাজী ডেকে খোলা তালাকের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে।

জরিমানার টাকা ভাগবাটোয়ারার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডকমেন্টারি যে টাকা পাওয়ার যোগ্য সেটাই খোরপোষ হিসেবে তাকে দেয়া হয়েছে। থানায় অভিযোগ রয়েছে। কিছু টাকা সম্ভাব্য খরচের জন্য রেখে দেয়া হয়েছে।

(দেলদুয়ার সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-