দূর্নীতির অভিযোগে নাগরপুরের অগ্নিবীণা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ বরখাস্ত

দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার অগ্নিবীণা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিরুল ইসলাম মুকুলকে তৃতীয় দফায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, মো. আমিরুল ইসলাম মুকুল ১৯ শে মার্চ ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে অগ্নিবীণা আইডিয়াল কলেজে যোগদান করার পর থেকেই বিভিন্ন আর্থিক দূর্নীতি ও অনিয়ম করে আসছে। প্রশাসনিক অযোগ্যতা ও আর্থিক দূর্নীতির কারণে বিগত ২৭ মে ২০০৮ তারিখে নির্বাহী কমিটি এবং একই কারণে ৩১ শে আগস্ট ২০১৩ তারিখে গভর্ণিং বডি অধ্যক্ষ মো. আমিরুল ইসলাম মুকুলকে দ্বিতীয় বারের মতো সাময়িক বরখাস্ত করেন। দিন দিন তার দূর্নীতি ও নানা অনিয়ম চলতে থাকায় গভর্ণিং বডি গত ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে অধ্যক্ষ মো. আমিরুল মুকুলকে তৃতীয় বারের মতো সাময়িক বরখাস্ত করে কলেজের প্রশাসনিক শূণ্যতা পূরণ ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উক্ত কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ শামছুজ্জামান খাঁনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে।

অগ্নিবীণা আইডিয়াল কলেজ ও কবি নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মীর দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ও কলেজের দাতা সদস্য মীর মুশফিক হোসেন শৈবালের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিরুল ইসলাম মুকুল কলেজে যোগদান করার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আসছে। তার দূর্ণীতি ও অযোগ্যতার কারণে এবার নিয়ে তৃতীয় দফা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষ মো. আমিরুল ইসলাম মুকুলের দূর্নীতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। তিনি কলেজের জন্য সরকারীভাবে আসা সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য দুই টন গম, কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মো. আব্দুল হাই মিয়াকে উচ্চতর বেতন স্কেল পাইয়ে দেয়ার জন্য তার নিকট থেকে কলেজের বিভিন্ন জিনিস পত্র ক্রয় করার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে কলেজের কোন জিনিস না কিনে সে ব্যক্তিগত ভাবে খরচ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, কলেজে কোন ক্যাশ খাতা নাই, কোন প্রকার ভাউচার ছাড়াই কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি, রেজিষ্ট্রশন, ফরম পূরণ ও পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য টাকা পয়সা কলেজ কর্তৃপক্ষের কারো সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ বা হিসাব নিকাশ না করেই তার ইচ্ছে মতো ব্যায় করেন। তিনি কলেজের হাজিরা ও রেজুলেশন খাতা এবং কলেজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ম বর্হিভূত কলেজে না রেখে তার বাড়ীতে রাখেন।

তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষ কোন প্রকার ছুটি ছাড়াই ২৮ নভেম্বর ২০১৭ থেকে এ পর্যন্ত কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন।

অগ্নিবীণা আইডিয়াল কলেজ ও কবি নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মীর দেলোয়ার হোসেনের ছোট ভাই কলেজের দাতা সদস্য মীর সোহেল রানা জানান, কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিরুল ইসলাম মুকুলের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কলেজের শিক্ষার মান ক্ষুন্নু হচ্ছে।  অপর দিকে দিন দিন ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

এব্যাপারে অগ্নিবীণা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিরুল ইসলাম মুকুলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কলেজের অধ্যক্ষ আছি, থাকবো ইনশাল্লাহ। সাময়িক বরখাস্তে বিষয়ে তিনি বলেন, এব্যাপারে আমি কোন চিঠি পাইনি।

অগ্নিবীণা আইডিয়াল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল মজিদ মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিরুল ইসলাম মুকুল বিভিন্ন সময় কলেজের আর্থিক দূর্নীতি ও নানা অনিয়মের কারণে ইতোপূর্বে দুই বার সাময়িক বরখাস্ত হন। সে পুনরায় অধ্যক্ষে দায়িত্ব পেয়ে একই কার্যক্রম শুরু করেন। তাকে বার বার সতর্ক করা হলেও সে দায়িত্বে অবহেলা করতে থাকেন। অবশেষে কলেজ রক্ষা ও শিক্ষার মান ধরে রাখতে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের দায়ে ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম মুকুলকে সাময়িক বরখাস্ত করে কলেজের প্রশাসনিক শূণ্যতা পূরণ ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ শামছুজ্জামান খাঁনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

(নাগরপুর প্রতিনিধি, ঘাটাইল ডট কম)/-

error: Content is protected !!