ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তিন ম্যাচে বড় জয়ের পর আজ শোচনীয়ভাবে হেরে গেলে বাংলাদেশ

টানা তিন ম্যাচে বড় জয়ের পর আজ শোচনীয়ভাবে হেরে গেলে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০ উইকেটে হেরেছে টাইগাররা। এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজের ফাইনালে উঠে গেল শ্রীলঙ্কা। আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ। এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে এদিন বাংলাদেশের দেয়া ৮৩ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১১.৫ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। দলের পক্ষে দানুশকা গুনাথিলাকা ৩৫ রান করে ও উপুল থারাঙ্গা ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

উইকেটের দিক থেকে ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় জয়। এর আগেও তাদের দশ উইকেটের জয় আছে। তারা মোট পাঁচবার দশ উইকেটে জয় পেয়েছে। কিন্তু আজ তারা ২২৯ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয়। দশ উইকেটের জয়ে এর আগে তারা ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ বল হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছিল।

আজ প্রথমে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৪ ওভারে ৮২ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে টাইগারদের এটি সর্বনিম্ন ইনিংস। আর সবমিলিয়ে দ্বিতীয়। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রানের ইনিংসটি হলো ৭৬ রানের। ২০০২ সালে সালে সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলম্বোতে।

বাংলাদেশের পক্ষে আজ দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন দুই ব্যাটসম্যান। মুশফিকুর রহিম করেন ২৬ রান। ১০ রান করেন সাব্বির রহমান। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সুরঙ্গা লাকমল ৩টি, দুশমান্থ চামিরা ২টি, থিসারা পেরেরা ২টি ও লক্ষণ সান্দাকান ২টি করে উইকেট নেন।

সিরিজে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে। আজ শ্রীলঙ্কা জিতলে তারা ফাইনালে টাইগারদের মুখোমুখি হবে। ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ জানুয়ারি।

টাইগাররা ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় পাঁচ রানে প্রথম উইকেট হারায়। সুরঙ্গা লাকমলের বলে বোল্ড হন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ছয় বল খেলে শূন্য রান করেন তিনি।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে সাজঘরে ফিরে যান সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। ওভারের তৃতীয় বলে রান আউট হন সাকিব আল হাসান। সুরঙ্গা লাকমলের করা এই ওভারের পঞ্চম বলে দানুশকা গুনাথিলাকার হাতে ক্যাচ হন তামিম ইকবাল। সাকিব করেন আট রান। তামিম করেন পাঁচ রান।

ইনিংসের ১১তম ওভারে সুরঙ্গা লাকমলের বলে দুশমান্থ চামিরার হাতে ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি করেন সাত রান। ১৯তম ওভারে থিসারা পেরেরার বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন আবুল হাসান রাজু।

২৩তম ওভারে সাজঘরে ফিরেন মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেন। দুশমান্থ চামিরার করা ওভারের তৃতীয় বলে কুসল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ হন মুশফিকুর রহিম। ওভারের শেষ বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন নাসির হোসেন। লক্ষণ সান্দাকানের করা ২৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওভারের শেষ বলে উপুল থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ হন রুবেল হোসেন।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্পিনার সানজামুল ইসলামকে বসিয়ে একাদশে রাখা হয়েছে। তার পরিবর্তে একাদশে নেয়া হয়েছে পেসার আবুল হাসান রাজুকে।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা একাদশে দুইটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইনজুরির কারণে একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার কুসল পেরেরা ও পেসার নুয়ান প্রদীপ। কুসল পেরেরার পরিবর্তে একাদশে রাখা হয়েছে দানুশকা গুনাথিলাকাকে। আর নুয়ান প্রদীপের জায়গায় একাদশে রাখা হয়েছে দুশমান্থ চামিরাকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: দশ উইকেটে জয়ী শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশ ইনিংস: ৮২ (২৪ ওভার)

(তামিম ইকবাল ৫, এনামুল হক বিজয় ০, সাকিব আল হাসান ৮, মুশফিকুর রহিম ২৬, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৭, সাব্বির রহমান ১০, আবুল হাসান রাজু ৭, নাসির হোসেন ৩, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১, রুবেল হোসেন ০, মোস্তাফিজুর রহমান ১*; সুরঙ্গা লাকমল ৩/২১, দুশমান্থ চামিরা ২/৬, থিসারা পেরেরা ২/২৭, লক্ষণ সান্দাকান ২/২৪)।

শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ৮৩/০ (১১.৫ ওভার)

(দানুশকা গুনাথিলাকা ৩৫*, উপুল থারাঙ্গা ৩৯*; মাশরাফি বিন মুর্তজা ০/১৫, আবুল হাসান রাজু ০/২৫, নাসির হোসেন ০/১৯, মোস্তাফিজুর রহমান ০/১৪, সাকিব আল হাসান ০/১০)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: সুরঙ্গা লাকমল (শ্রীলঙ্কা)।

(ঘাটাইল ডট কম/২৫ জানুয়ারি/এসইউএল)/-

162total visits,2visits today