তুচ্ছ কারণে ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ হচ্ছে: কাদের

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বিলোপে গণমাধ্যমকর্মীদের আন্দোলনের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই ধারার অপপ্রয়োগ হচ্ছে। তুচ্ছ কারণেও এই ধারার ব্যবহার হচ্ছে। এটা ঠেকাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন সড়ক মন্ত্রী।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেলের ট্র্যাক ও এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সড়ক মন্ত্রী এ কথা বলেন।

অনলাইন মাধ্যমে কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সংযোজন করা হয়। এতে বলা আছে, ‘কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়া হয়, তাহলে তার এই কাজ হবে একটি অপরাধ৷’

আইনে এই অপরাধের সাজা হিসেবে সর্বনিম্ন সাত থেকে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের কথা বলা আছে। পাশাপাশি এক কোটি টাকা জরিমানার কথাও বলা আছে আইনে।

কারও বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বা অপপ্রচার রোধে এই ধারাটি সংযোজন করা হলেও এর সংজ্ঞা অনেক বেশি বিস্তৃত বলে অভিযোগ আছে। বিশেষ করে অনলাইন গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা এই ধারার কারণে অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করে আসছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। কারণ, বিস্তৃত সংজ্ঞার কারণে সংবাদের একটি বড় অংশই এই ধরার অধীনে মামলাযোগ্য হতে পারে।

সম্প্রতি একজন সাংবাদিক এই ধারায় মামলার শিকার হয়েছেন সংবাদ শেয়ার করে। এক জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বিচারকের ট্রেনে ওঠার কাহিনি লেখায়। সবশেষ খুলনায় মামলার পর এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছাগলের মৃত্যুর সংবাদে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ছবি জুড়ে দেয়ায়। মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের পর পরদিন বুধবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ওই সাংবাদিক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫৭ ধারা করা হয়েছিল। কিন্তু তুচ্ছ কারণে এর অপপ্রয়োগ করা ঠিক নয়। খুলনায় যে ঘটনা ঘটেছে তা দু:খজনক। এমন কোন মাললা করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষর মতামত নিয়ে করা উচিত।’

এ ব্যপারে তথ্যমন্ত্রীকে হস্থক্ষেপ করার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘এ আইন বাদ দেওয়ার কথা আমি বলব না, অপপ্রয়োগ ঠেকাতে বলব।’

 

(ঘাটাইল.কম)/-

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।