ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের ধাওয়া

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলায় সাজা দেয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা মারাত্মক ক্ষুব্ধ। নির্দেশ অনুযায়ী কোনো ফাঁদে পা না দিয়ে এখন তারা পরিস্থিতি সামলে উঠার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। নেত্রীকে সাজার দেয়ার প্রতিবাদে আজ রাজধানীসহ সারাদেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ছিল বিএনপির। জুমার নামাজের পর রাজধানীতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির উদ্যোগে এবং বিভিন্ন থানায় শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেন দলের নেতাকর্মীরা।

বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা। মিছিলটি সেখান থেকে শুরু হয়ে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছলে পুলিশের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার বিএনপি নেতাকর্মীদের এ মিছিল শান্তিপূর্ণই ছিল। আগের দিনের মত পুলিশের সাথে সংঘর্ষের কোনো ঘটনাও এদিন ঘটেনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শিবলী নোমান সাংবাদিকদের বলেছেন, যেহেতু তারা কোনো আনরুলি অবস্থানে ছিল না, সেজন্য পুলিশও ধৈর্য সহকারে শান্তিপূর্ণ মিছিলকে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করেছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেন আদালত। এই ঘটনার প্রতিবাদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্র ও শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপি অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছিল যে, খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হলে তারা শান্তিপূর্ণভাবেই রাজপথে প্রতিবাদ জানাবে। সে অনুযায়ী আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বায়তুল মোকাররমে নামাজ আদায়ের পর মিছিলে নেতৃত্ব দেন। অবশ্য পরে দৈনিক বাংলার কাছে মিছিল থেকে একটি গাড়িতে ওঠেন তিনি।

মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট দিয়ে শুরু হয়ে দৈনিক বাংলা মোড় ঘুরে ফকিরাপুল দিয়ে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এসময় মিছিলকারীদের অনেকেই বিভিন্ন গলিতে ঢুকে যান।

তবে অল্প সময়ের মধ্যেই ফের তারা জড়ো হয়ে নতুন করে মিছিল শুরু করেন।

পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যেই বিএনপি নেতাকর্মীদের মিছিল কোথাও কোথাও কিছুটা এলোমেলো হয়ে যেতে দেখা যায়। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে মিছিলে উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

বিক্ষোভ মিছিলে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কাজী আবুল বাশার, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, রফিক সিকদার, খান রবিউল ইসলাম রবি, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, নূরুল ইসলাম নয়ন, গোলাম মাওলা শাহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, মফিজুর রহমান আশিকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিলে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই’, ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন সারাদেশে’- ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে যখন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল তখন ওপরে ব্যালকনি থেকে হাততালি দিয়ে তাদের সমর্থন দিতে দেখা যায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে।

এদিকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদের মিছিল বেশ বড় আকার ধারণ করে। পুলিশ সদস্যদের পেছনে রেখে কয়েকশ’ বিএনপি কর্মীর ওই মিছিল নাইটেঙ্গেল মোড়ের দিকে এগোতে থাকে। একপর্যায়ে সামনে থেকে পুলিশের আরেকটি দল এগিয়ে এলে সংঘাত এড়াতে মিছিলকারীরা নাইটেঙ্গেল মোড়ের আগেই একটি গলির মধ্যে ঢুকে পড়ে আর তখনই পেছনের পুলিশ সদস্যরা বাঁশি বাজাতে বাজাতে লাঠি হাতে তেড়ে যান। পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানও তখন রাস্তায় ছিল। ওই গলি থেকে কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা। তবে কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা জানাতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তা শিবলী নোমান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, যেহেতু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মিছিল বিক্ষোভ করার অধিকার মানুষের রয়েছে, তারা যে মিছিল করেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জন্য মিছিলে সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ মিছিলের শেষ দিকে পুলিশের ধাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, মিছিলকারীরা যেহেতু গলিতে ঢুকে পড়েছিল, সেখানে যেহেতু বাসা-বাড়ি আছে, সে কারণে হয়ত পুলিশ সেখানে গেছে।

বিএনপি কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজকের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ কাউকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

ধানমণ্ডি থানা বিএনপির বিক্ষোভ

এদিকে রাজধানীর ল্যাবএইড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমণ্ডি থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা। থানা বিএনপির সভাপতি শেখ রবিউল আলম রবির নেতৃত্বে আজ জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিলটি ল্যাবএইড থেকে শুরু হয়ে গ্রিনরোড প্রদক্ষিণ করে সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে পৌঁছলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। ফলে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে পুলিশ মিছিলের ব্যানারটি কেড়ে নিয়ে যায়।

(ঘাটাইল ডট কম)/-

75total visits,1visits today