ঢাকার রাস্তা

(ছবিঃআগারগাঁও থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার পথে পুরাতন এয়ারপোর্ট সড়ক বেহাল)
মালিবাগ, রামপুরা বাড্ডা ও প্রগতি সরণি
কোথাও ছোট-বড় গর্ত হাঁ করে আছে, কোথাও চলছে স্যুয়ারেজ লাইনের সংস্কার, ফ্লাইওভার বা ইউ লুপ নির্মাণের কাজ। কোনো এলাকায় আবার রাস্তার সংস্কারের কাজ হয়নি বছরের পর বছর। এভাবে মালিবাগ থেকে রামপুরা, রামপুরা সেতু থেকে বনশ্রীর মূল সড়ক; বাড্ডা, নতুনবাজার ও প্রগতি সরণি এলাকার বেশির ভাগ রাস্তাই হয়ে পড়েছে চলাচলের অনুপযোগী। চলতে গিয়ে যাত্রীদের পোহাতে হয় তীব্র ভোগান্তি। বুধবারের বৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

মালিবাগ রেলগেট থেকে রামপুরা : মালিবাগ রেলগেট থেকে আবুল হোটেল পর্যন্ত রাস্তাটি অল্প বৃষ্টিতেই ডুবে যায়। পুরো রাস্তায় বড় বড় গর্ত। খানাখন্দ, পানি-কাদায় চলা দায়। রাস্তা ও পাশের ফুটপাতের অনেকটা জুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে ফ্লাইওভারের নির্মাণসামগ্রী। পথচারীরা রাস্তার এক পাশ থেকে আরেক পাশে যাতায়াত করতে পারে না। মালিবাগে শ্যামলী বাস কাউন্টারের কর্মী আবুল কালামের ভাষায়, ‘ফ্লাইওভার নির্মাণ শুরুর সময় থেকে এই এলাকার রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী। ভোগান্তি আরো কত দিন চলবে কে জানে?’

বৃষ্টি হলে এ এলাকায় রাস্তা ডুবে যায়। যানবাহন দূরের কথা পথচারীও চলাচল করতে পারে না। মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা খোন্দকার তৌহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ময়লা পানি যাওয়ার ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্লাইওভার নির্মাণের বিভিন্ন জিনিসে আটকে গেছে পানিপ্রবাহ। ফলে বহুদিন ধরে ময়লা পানি জমে আছে রাস্তায়। পানি জমে থাকায় রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। ’ রামপুরা রুটে চলাচলকারী সুপ্রভাত পরিবহনের চালক ইসরাফিল মিয়া বলেন, এই রাস্তার যে অবস্থা তাতে বাসের যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যানজট ভয়াবহ রূপ নেয়।

রামপুরা বাজার থেকে আবুল হোটেল পর্যন্ত রাস্তার পিচ উঠে গেছে, চারদিক খানাখন্দে ভরা। রিকশা-ভ্যানের চাকা ঘোরে না, মোটরগাড়িগুলো চলে অত্যন্ত ধীরগতিতে।

রামপুরা থেকে প্রগতি সরণি : রামপুরা সেতু এলাকায় ইউ লুপ নির্মাণের সময় এখানে যে গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে ভরাট করা হয়নি। বিশেষ করে রামপুরা সেতু থেকে টেলিভিশন ভবন পর্যন্ত রাস্তা বেহাল। বৃষ্টিতে গর্ত ভরে পুরো রাস্তা কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। গাড়ি চলতে পারে না।

হাতিরঝিল-বাড্ডা ইউ লুপ নির্মাণের কাজ চলায় বাড্ডা এলাকায় রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। মেরুল বাড্ডার বালুরমাঠ এলাকা থেকে গুলশানের লিংক রোড পর্যন্ত রাস্তায় অসংখ্য খাদ। বৃষ্টির পর সেগুলো ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। বালুরমাঠ এলাকার বাসিন্দা লোকমান হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১৫ সালের মাঝামাঝি এই ইউ লুপের কাজ শুরু হয়েছে। ইউ লুপের বিভিন্ন পিলার স্থাপনে পাইলিংয়ের কারণে রাস্তা পুরোটাই নষ্ট হয়েছে। এখনো একই অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টিতে কাদা আর শীতে ধুলায় চলা দায় হয়ে গেছে। ’

লিংক রোড থেকে উত্তর বাড্ডা পর্যন্ত রাস্তার সংস্কারকাজ হয় না পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে। উত্তর বাড্ডার ফল ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়ার কথায়, ‘পাঁচ বছর ধরে রাস্তায় কোনো সংস্কারকাজ হয় না। তার ওপর ইউ লুপের কারণে মধ্য বাড্ডা এলাকার রাস্তা শেষ। যানজট লগেই থাকে। ’

উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে থেকে মেরুল বাড্ডার বালুরমাঠ পর্যন্ত রাস্তার মাঝখানে স্যুয়ারেজ লাইনের সংস্কার চলছে। ফলে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় জ্যাম লেগেই থাকে। রাস্তার মাঝখানে রাখা হয়েছে স্যুয়ারেজের নোংরা ও সংস্কারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম। স্থানীয় বাসিন্দা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সামিউল কবির বলেন, ‘ভোগান্তির শেষ নেই। পুরো রাস্তা খানাখন্দে ভরা। বেশির ভাগ সময় বাসে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ’

নতুনবাজার থেকে নদ্দা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার পূর্ব পাশে স্যুয়ারেজ সংস্কার চলছে। আবার এই এলাকার সড়কে রোড ডিভাইডার পুনরায় নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে খানাখন্দে ভরে গেছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল ফটক থেকে নদ্দা পর্যন্ত স্যুয়ারেজ লাইনের সংস্কারকাজ চলছে। ফলে এই এলাকার সড়কে যানজট লেগেই থাকে।

রামপুরা সেতু থেকে বনশ্রী সড়ক : বনশ্রীর প্রধান সড়ক বেহাল। সড়কে ছোট-বড় গর্ত। ভাঙা অংশে জমে থাকে বৃষ্টির পানি। বনশ্রী থেকে হাতিরঝিলে ইউ লুপের সামনে, বনশ্রী কেন্দ্রীয় মসজিদ, ‘বি’ ব্লক, ‘সি’ ব্লকের ব্র্যাক ব্যাংকের সামনের সড়কের অবস্থা বেশি খারাপ।

134total visits,5visits today

Leave a Reply