ঢাকায় ভারতীয় শিল্পীরা কি অনুমতি নিয়ে কাজ করছেন? ফেলুদা, পরমব্রত আর সাধারণ ডায়েরী

বাংলাদেশের নাটক সিনেমায় ভারতীয় অভিনেতা অভিনেত্রীসহ শিল্পী কলাকুশলীরা কিভাবে কাজ করেন? তারা কি ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বাংলাদেশে কাজ করতে আসেন? বাংলাদেশের পরিচালক শিল্পীদের অভিযোগ নাটক সিনেমায় ভারতীয় অভিনেতা অভিনেত্রীসহ শিল্পী কলাকুশলীরা যারা কাজ করেন তাদের অনেকেই যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনেই কাজ করছেন। কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তাদের অনেককে অনেক সময় বাংলাদেশী হিসেবে দেখিয়ে থাকে।

 

নিজের অভিনীত একটি সিনেমার মুক্তি পাওয়া উপলক্ষে এখন ঢাকায় রয়েছেন কোলকাতার অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এর মধ্যেই গণমাধ্যমে খবর এসেছে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজ হবে ঢাকাতেও এবং ৩৫ পর্বের সিরিজটি পরিবেশন করবে বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল। আর তাতে ফেলুদা চরিত্রে অভিনয় করবে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

 

নিয়ম না মেনে বাংলাদেশী নাটকে অভিনয়ের অভিযোগ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী বা জিডি করেছেন বাংলাদেশের পরিচালক ও অভিনেতা গাজী রাকায়েত। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে : পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও ক্যান্ডি প্রডাকশন হাউজের নাম। গাজী রাকায়েত বিবিসিকে বলেন, “এখানে যা হচ্ছে যে বিদেশী শিল্পী কলাকুশলীরা আসছেন টুরিস্ট ভিসায়। এখানে পরমব্রত এর বিরুদ্ধে জিডি নয়। এখানে বাংলাদেশের যে বিশৃঙ্খলা ইন্ডাস্ট্রিতে চলেছে তার বিরুদ্ধে এবং একটা কেইস হিসেবে ক্যান্ডি প্রডাকশন যারা সিরিজটা করছে তাদের কথা উল্লেখ করে জিডি করেছি। যাতে ভবিষ্যতে এমন অবৈধ শুটিং যেন বন্ধ করা হয়। যেহেতু পরমব্রত ওই প্রডাকশনের সাথে জড়িত সেজন্য তার নাম আসছে। আমরা চাই এখানে যারাই কাজ করতে আসবে সেটা তারা দু’দেশের নিয়ম মেনে করবে।”

ক্যান্ডি প্রডাকশনের প্রধান শাহরিয়ার শাকিল বলছেন, “থানায় জিডির ঘটনা তাদের বিস্মিত করেছে। কারণ পরমব্রত এখনো ফেলুদা সিরিজের কাজ শুরু করেননি বরং তিনি ঢাকায় এসেছে তার সিনেমার মুক্তি উপলক্ষে। আমরা কিছু প্রমোর শট, লোকেশন ছবি তোলা ও রিহার্সেলের মতো প্রি প্রডাকশনের কাজ করছি। আমরা যখন শুটিংয়ের কাগজ হাতে পাবো তখনই মূল শুটিং শুরু করবো।”

শাকিল জানান, “আমরা যে ফেলুদা তৈরি করবো। যেটার অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছি। ৩৫টা গল্প তৈরি করবো। উনি ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা নিয়ে যথাযথভাবে আসলেই শুটিং শুরু হবে। সেটার আবেদন করেছি ১৩ই জুলাই।”

 

বাংলাদেশের প্রবীণ অভিনেতা ও পরিচালক মামুনুর রশীদ বলছেন, “এখন শুধু একটি বা দুটি অনুষ্ঠান নয় বরং বাংলাদেশী সিনেমা নাটকে তাদের অংশগ্রহণের প্রবণতা অনেক বেড়েছে কিন্তু এদের বেশিরভাগই নিয়ম মেনে কাজ করছেন না। তার মতে এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাংলাদেশী শিল্পীরা। এখন নাটকের ক্ষেত্রেও যৌথ প্রযোজনা শুরু হয়েছে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া। যেভাবে আগাচ্ছে তাতে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি শূন্য হয়ে যাবে। এখানে কেউ কাজ করতে চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে। পরিচালক ও অভিনেতা হলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্য হতে হবে।”

 

মামুনুর রশীদ ও গাজী রাকায়েত দুজনেই অভিযোগ করেন কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশী শিল্পীদের জন্য কোন ধরনের অনুমতিই নেয় না। তারা মনে করেন বিদেশী শিল্পীদের পর্যটন ভিসায় বাংলাদেশে এসে যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে নাটক সিনেমায় অংশগ্রহণ ঠেকাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।

 

(বিবিসি… ঘাটাইল.কম)/-

170total visits,1visits today

Leave a Reply