‘ডেল্টা প্ল্যান’১০০ বছর মেয়াদী বাস্তবায়ন ,প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : ১০০ বছর মেয়াদী ‘ডেল্টা প্ল্যান’ ১২ দেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদী সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় আগামী একশ বছর-মেয়াদি বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ নামে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যাতে একশ বছরে পানির প্রাপ্যতা, তার ব্যবহার এবং প্রতিবেশগত বিষয়সমূহ বিবেচনায় রাখা হয়েছে।’

শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে তিনদিন ব্যাপী ‘ঢাকা পানি সম্মেলন-২০১৭’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পরিকল্পনায় ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও পানির বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এতে সমতল, পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকাকে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া হয়েছে। আর্সেনিক ও লবণাক্ততা, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণের অপ্রতুলতা, পানির অপচয় এবং শিল্প বর্জ্যসহ নানা কারণে পানি দূষণ বাংলাদেশে পানির ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় মূল সমস্যা।’

তিনি বলেন,গোটা বিশ্বে এই মুহূর্তে ২৪০ কোটি মানুষ স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিরাপদ পানির অভাবে বছরে ১০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। যাদের অধিকাংশই শিশু। প্রতিদিন গড়ে বিশ্বে এক হাজার শিশু বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারা যায়।

সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন,‘বিশুদ্ধ খাবার পানি শুধু আমাদের বেঁচে থাকার জন্যই নয়,সমগ্র প্রাণিকূলেরও বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। বিশ্বে শতকরা ১ ভাগেরও কম পানি পানের জন্য নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়। ফলে এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষের সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।’

ঢাকা পানি সম্মেলন-২০১৭’, ডেল্টা সামিটের ওয়ার্কিং সেশন এবং শেরপা বৈঠকগুলোতে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশনের পথে চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত হবে এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ কর্মকৌশলও বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আর্সেনিক সমস্যা মোকাবিলায় ‘ন্যাশনাল পলিসি ফর আর্সেনিক মিটিগেশন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্লান’ বাস্তবায়ন, লবণাক্ত পানি-প্রবণ এলাকায় পুকুরের পানি ফিল্টার করে লবণাক্ততা মুক্ত করা হয়েছে ৭ হাজার পুকুর এবং ৩২ হাজার ৬০০টি গভীর কূপ খনন করা, বর্ষার পানি সংরক্ষণে ৪ হাজার ৭০০ জলাধার নির্মাণ, শিল্পাঞ্চল,বড় বড় আবাসিক এলাকায় জলাধার তৈরি,বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ,বর্জ্য ও দূষিত পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ নেওয়া,নাব্যতা হ্রাস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রমসহ নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।

92total visits,2visits today

Leave a Reply