টুইটার-ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের

‘ভারতের নরেন্দ্র মোদি কোথায় যাচ্ছেন, ইসরাইলের বিষয়ে তার মতামত কী, সারা বিশ্বে বড় কোনো ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কী’- এসব প্রশ্নের উত্তর নিমিষেই মিলে যায় মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে। সরকার বা ব্যক্তিগত বিষয়ে যেকোনো আপডেট টুইট করতে পছন্দ করেন মোদি। দক্ষিণ এশিয়ার আরেক রাষ্ট্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের বিভিন্ন নেতাদের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে টুইটার। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো টুইটার কিংবা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকায় সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনলাইনে সক্রিয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে সাতটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রয়েছে টুইটার ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল করার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো টুইটার কিংবা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।

দেশের তরুণ প্রজন্মসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দিন দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর হয়ে পড়ছে। সংবাদমাধ্যমও অনেক খবরের সূত্র পাচ্ছে ফেসবুক থেকে। আবার অনেক সময়ই সরকার বেকায়দায় পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরব থাকায়। নিজ দেশের উন্নয়নের চিত্র বিশ্বের কাছে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে টুইটার, ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এমন বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। কারণ জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

২০১৫ সালের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে এলে তার সব কার্যক্রম ‘পিএমওইন্ডিয়া’র টুইটার ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সঙ্গে সঙ্গেই আপডেট করা হয়। তথ্য ও ছবির জন্য গণমাধ্যমও ওই অ্যাকাউন্টের ওপর নির্ভর করেছে। সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকাউন্ট না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য সাতটি দেশ আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের রয়েছে একাধিক অ্যাকাউন্ট। দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেখা যায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্ট ও একই নামে রয়েছে ফেসবুক পেজ এবং রয়েছে ইউটিউব চ্যানেল।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্টের নাম এআরজি। এ ছাড়া একই নামে রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেল।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট অফিসের টুইটার, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলের নাম প্রেসিডেন্সি মালদ্বীপ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্ট নেই। তবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে ও সরকারের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটে রানিল বিক্রমসিংহের টুইটার অ্যাকাউন্টটি যোগ করা হয়েছে এবং একই নামে রয়েছে ফেসবুক অ্যাকাউন্টও।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টের নাম ‘পিএম ভুটান’।

নেপাল সরকারের নিজস্ব টুইটার অ্যাকাউন্টের নাম হেল্লো সরকার, একই নামে রয়েছে ফেসবুক অ্যাকাউন্টও।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বাংলা সাইটে ‘সামাজিক যোগাযোগ’ নামে একটি ক্যাটাগরি রয়েছে। তবে সেটি অকার্যকর। এ ছাড়া ইংরেজি সাইটে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ নামের ক্যাটাগরিও অকার্যকর।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে (বঙ্গভবন.গভ.বিডি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কোনো ক্যাটাগরির দেখা মেলেনি। তবে বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইটে (বাংলাদেশ.গভ.বিডি) একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের একটি টুইটার অ্যাকাউন্টের দেখা মিলেছে। অবশ্য এটুআইর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই বিষয়গুলো এটুআই দেখে। তাদের কাছে বিস্তারিত জানতে পারবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)।

এটুআইর ওয়েবসাইটে থাকা হেল্প লাইনে ফোন করলে টুইটার প্রসঙ্গে কথা হয় কমিউনিকেশন অফিসার আদনান ফয়সালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্ট অবশ্যই রয়েছে। হয়তো ওয়েবসাইটে নেই। এটুআইর টুইটার অ্যাকাউন্ট শুধু এটুআই দেখে, আর প্রধানমন্ত্রীর বা তার কার্যালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং দেখে।’

পরবর্তী সময়ে একই কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে টুইটার অ্যাকাউন্ট কোথায় আছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি কলটি রিসিভ করে রেখে দেন। পরে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি তাকে।

আদনানের পর এটুআই প্রকল্পের পরিচালক কবির বিন আনোয়ারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ চেষ্টা করা হয়। অপর প্রান্ত থেকে তিনি কল রিসিভ করলেও সংবাদমাধ্যমের নাম শুনে মিটিংয়ে রয়েছেন বলে মোবাইল রেখে দেন। পরবর্তী সময়ে তাকে ফোন করা হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে কোনো দেশের সরকারপ্রধানের অ্যাকাউন্ট থাকা প্রয়োজন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্ট থাকা প্রয়োজন তো বটেই। ইয়াং জেনারেশন আস্তে আস্তে সোশ্যাল মিডিয়া, ইন্টারনেটের দিকেই ঝুঁকছে। এক সময় তারা তো আর প্রিন্ট মিডিয়া বা টেলিভিশন দেখবে না। সেই হিসেবে ইনফরমেশনের জন্য এসব অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন। এ ছাড়া টেকনোলজি পরিবর্তন হচ্ছে। সেই হিসেবে তাদের ওয়েবসাইট যত বেশি আপডেট হবে তত বেটার।’

(ঘাটাইল ডট কম)/-

82total visits,2visits today