টাঙ্গাইলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ পরিদর্শনে রেলমন্ত্রী ; আজ-কালের মধ্যেই মেরামত হবে

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় পৌলী নদীর ওপর রেলসেতুটি আজ রোববার রাত বা আগামীকালের মধ্যেই মেরামত করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। সেতুটি ঠিক করার জন্য সব মালামাল ও জনবল এরই মধ্যে কাজে লাগানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। আজ রোববার সেতুটি পরিদর্শনে গিয়ে রেলমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে আজ সকালে ওই সেতুর অ্যাপ্রোচ থেকে প্রায় ২০ ফুট মাটি ধসে যায়। এ ছাড়া সেখানে রেললাইনের অন্তত ২০টি স্লিপার পানিতে পড়ে যায়। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যা প্রয়োজন অর্থাৎ এই ট্রেন চলাচলের জন্য, ট্রেন আবার যাতে সঠিকভাবে চলাচল করে এর জন্য যা প্রয়োজন এখানে সেই ধরনের ম্যাটেরিয়ালস এসেছে। যা লাগে তা আরো আসবে, জনবল নিয়োগ করা হইছে। আমরা আশা করি, আজকের রাত্রের শেষভাগে অথবা আগামী দিনে আমরা অবশ্যই এই ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ করে ট্রেন চালাতে সক্ষম হব ইনশা আল্লাহ।’

মুজিবুল হক আরো বলেন, ‘এই যে হঠাৎ করে ব্রিজটি ভেঙে গেল, এতে অনেকগুলো ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমাদের মূল্য লক্ষ্য আমরা দায়িত্বে আছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, ঈদুল আজহা সমাগত, এই উপলক্ষে জনগণ যাতে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে-নীরবে, অনায়াসে তারা বাড়িতে গিয়ে ঈদ করতে পারে, যাতে সঠিকভাবে ট্রেন চলাচল করে আমরা এই জন্য আমি এসেছি, আমাদের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় এসেছেন, ডিজি মহোদয় এসেছেন।’

সকালে রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, ঘটনাস্থলে মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। এখানে প্রায় ২০ ফুট গভীর হয়েছে এবং মাটি সরে পড়েছে। এ সময় তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মেরামতকাজ শেষ করার আশ্বাস দেন।

টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল স্টেশন মাস্টার জালাল উদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি যমুনা নদীর ওপর অবস্থিত কালিহাতি উপজেলার পৌলী রেল ব্রিজ এলাকায় অতিক্রম করে। এর পরই পৌলী রেল ব্রিজের ৩০ ফুট এলাকাজুড়ে অ্যাপ্রোচ অংশ ধসে পড়ে। বন্যার পানিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।

জালাল উদ্দিন আরো জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার কারণে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে নীলফারারীর চিলাহাটি থেকে ঢাকাগামী নীলফামারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকা পড়ে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব স্টেশনে ঢাকাগামী রংপুর এক্সপ্রেস, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো জয়দেবপুর রেলস্টেশনে আটকা পড়ে আছে।

কালিহাতীর পৌলী নদীর ওপর রেলসেতুটির অ্যাপ্রোচ ও মাটি সরে যাওয়ার পর আজ দুপুর ১২টার দিকে রেল প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করেন। তাঁরা সেখানে বাঁশ দিয়ে পানির গতি কমিয়ে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করেন। এ সময় সেতুর দক্ষিণ পাশে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে সেতুর উত্তরপাশে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থাকা নীলমনি এক্সপ্রেসে করে গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

 

(ঘাটাইল.কম)/-

186total visits,2visits today