টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় বিএডিসি’র সারের তীব্র সংকট

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বিএডিসির সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একই সংকট চলছে জেলার অন্য ১১ উপজেলায়ও।
মৌসুমের শুরুতেই বিএডিসির সারের তীব্র সংকট থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিক মূল্য দিয়েও হাট-বাজারে সার না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ (সার বিপনন) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় পন্যবাহী ট্রাকে লোড ক্যাপাসিটি কন্টোলের জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বিএডিসির সার ডিলার ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে বিএডিসির সার সংকটের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ (বিএডিসি সার বিপনন) সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন বিএডিসির সার পাওয়ার কথা। কিন্ত এ বছর নানা জটিলতার কারণে সার পাওয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে প্রায় ২৬ মেট্রিক টন সার। বিএডিসির সার ডিলাররা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, একটি সিন্ডিকেট চক্র নানান কারসাজির মাধ্যমে সারের কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মোনাফা লুফে নিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, সখীপুর, বাসাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, কালিহাতি, ভুয়াপুর, গোপালপুর, ঘাটাইল, মধুপুর, ধনবাড়ি ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় বিএডিসির সার সংকটের একই চিত্র। প্রতিটি উপজেলার হাট বাজারে বিএডিসির সার পাওয়া যাচ্ছে না বলে কৃষকগন জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএডিসির কয়েকজন সার ডিলার অভিযোগ করেন,সরকারী দামে এক বস্তা টিএসপি সার ১০০০ টাকায় কিনে ১১০০ টাকায় বিক্রি, পটাশ এক বস্তা সার ৬৫০ টাকায় কিনে ৭০০শ টাকায় বিক্রি এবং ডিএপি এক বস্তা সার ১১৫০ টাকায় কিনে ১২৫০ টাকায় বিক্রি হতো। কিন্ত এ বছর বিএডিসির নিয়োজিত ঠিকাদারদের সিন্ডিকেটের কারণে সার পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বিএডিসির সার ডিলার ও কৃষকরা এক বস্তা সারের জন্য হন্যে হয়ে ঘরছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপ-পরিচালক (বিএডিসি সার বিপনন) মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রনালয় পন্যবাহী একটি ট্রাকে লোড ক্যাপাসিটি কন্টোলের জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বে একটি ট্রাকে সার আনা যেত ৩৬-৩৯ মেট্রিক টন। প্রজ্ঞাপন জারি করার পর এখন একটি ট্রাকে ১২-১৩ মেট্রিক টনের বেশী সার আনা যাচ্ছে না। ফলে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে সার সংকটের এ সমস্যা বেশী দিন থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
(ইত্তেফাক, ঘাটাইল ডট কম)/-

115total visits,1visits today