টাঙ্গাইলের সখীপুরে কলেজ ছাত্রীকে ৭ মাস আটকে রেখে ধর্ষণ, আদালতে জবানবন্দি

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৭ মাস নির্জন বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণের শিকার মেয়েটি টাঙ্গাইল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রূপম কান্তি দাস মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এই কলেজ ছাত্রীকে তার প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে ঘুমের ওষুধ ও নেশা খাইয়ে প্রায় ০৭ মাস আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বাদল মিয়া। রোববার সন্ধ্যায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলার রতনপুর কাশেম বাজার এলাকার একটি নির্জন বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সোমবার রাতে ওই ছাত্রীর ভাই সুমন মিয়া বাদী হয়ে সখীপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

মেয়েটির শারীরিক অবস্থা এখনও খুব দুর্বল। তবে আস্তে আস্তে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

কলেজ ছাত্রীসহ তার পরিবারের সবাই অভিযুক্ত বাদল মিয়াকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

কলেজ ছাত্রী জানায়, তার হাতে-পায়ে ঠিকমতো শক্তি পাচ্ছে না। কণ্ঠের জড়তাও কাটেনি। আমাকে যে কষ্ট দিয়েছে, আমি তার শাস্তি চাই, বিচার চাই।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সখীপুর থানার এসআই মোতালেব হোসেন কলেজ ছাত্রীকে টাঙ্গাইল আদালতে নিয়ে যান জবানবন্দি দেওয়ার জন্য।

এসআই মোতালেব হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে মেডিকেল রিপোর্ট দ্রুত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে। আসামি গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান খান বলেন, তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে দুর্বলতা কাটতে আরো সময় লাগবে। আগের চেয়ে এখন ভালো আছে।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ জানান, নির্যাতিতা কলে ছাত্রী ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক দাবি হওয়া দরকার। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে আইনি সহযোগিতা করা হবে।

 

(ঘাটাইল.কম)/-

83total visits,2visits today

Leave a Reply