টাঙ্গাইলের মধুপুরে রুপা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সকল স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার সকল স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুপুরের অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাইয়ুম সিদ্দিকী খানের স্বাক্ষ্য গ্রহনের মধ্যদিয়ে সকল স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন সম্পন্ন হয়।

মামলার মোট ২৭ জন স্বাক্ষী আদালতে তাদের স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।

টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এসব স্বাক্ষী গ্রহণ করেন।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবি এস আকবর খান জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাইয়ুম সিদ্দিকী খান গত রোববার স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। কিন্ত ওই দিন তার স্বাক্ষী অসমাপ্ত ছিল। মঙ্গলবার তার স্বাক্ষ্য সমাপ্ত হয়। আগামী  ২৮ জানুয়ারী আসামীদের পরীক্ষার জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদি হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

রুপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে রুপাকে সনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং সহকারি শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) কে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাছে তারা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। ২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারি শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আছে।

৩১ আগস্ট রুপার লাশ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জের তাঁরাশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

(টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, ঘাটাইল.কম)/-

132total visits,1visits today

সর্বশেষ
%d bloggers like this:
Skip to toolbar